ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : আগামীকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : জাপানের জলসীমায় ভেসে আসা নৌকা থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার * লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অবৈধ ৩৬০ শরণার্থী উদ্ধার   |   

রাঙ্গামাটিতে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ভাস্কর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে

রাঙ্গামাটি, ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ লীলাভূমি রাঙ্গামাটি। দিগন্ত ছুঁয়ে যাওয়া বিস্তীর্ণ পাহাড় কিংবা সবুজ বনানী রাঙ্গামাটিতে আসা পর্যটকদের হৃদয় কেড়ে নেয়। দৃষ্টিনন্দন এ পরিবেশে দাঁড়িয়ে একাত্তরের স্মৃতিজাগানিয়া মুহূর্তগুলো ধরা দেয় মুন্সি আব্দুর রউফের স্মৃতি ভাস্কর্যের পাদদেশে।
রাঙ্গামাটির প্রবেশ মুখে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ নান্দনিক সৌন্দর্যে গড়ে উঠেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অকুতোভয় সূর্য সন্তানের ভাস্কর্য।
রাঙ্গামাটি জেলায় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে পর্যটকদের এখন অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে শহরের প্রবেশ মুখ মানিকছড়ি এলাকা ও রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক সংলগ্ন পাহাড়ের কোলে নির্মিত ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের স্মৃতি ভাস্কর্য।
একটু সময় কাটানোর মতো ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বীর বেশে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।
ভাস্কর্যের পাশে লেখা রয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা-মুন্সি মেহেদী হোসেন, মাতা-মুকিতুননেছা। তিনি ১৯৬৩ সালে ৮ মে তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের সৈনিক পদে যোগদান করেন।
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি অংশ এবং তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের কিছু সংখ্যক সদস্য পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটির মহালছড়ির বুড়িঘাট এলাকায় চিংড়িখাল বরাবর হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিলেন।
শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ এদলের মেশিন গানের যোদ্ধা হিসেবে কর্ণফুলীর পাড়ে বুড়িঘাটে অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০ এপ্রিল তারিখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ২য় কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন আকস্মিকভাবে আক্রমণ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে।
প্রবল গোলাবর্ষণের মুখেও ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ তার মেশিনগানসহ নিজস্ব অবস্থানে স্থির থেকে শত্রুর উপর গুলিবর্ষণ অব্যাহত রেখে নিজস্ব বাহিনীর সকল লোককে নিরাপদে পশ্চাদপসারণে সহযোগিতা করেন।
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফের মেশিন গানের গুলির আঘাতে শত্রু বাহিনীর দুটি লঞ্চ ও একটি স্পিডবোট পানিতে ডুবে যায় এবং দুই প্লাটুন শত্রু সৈন্যের সলিল সমাধি ঘটে।
অক্ষত নৌযানসহ অবশিষ্ট শত্রু সৈন্য দ্রুত পেছনে পালিয়ে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। কিন্তু আকস্মিক হানাদার বাহিনীর মর্টারের একটি গোলা আবদুর রউফের ওপর আঘাত হানলে তিনি সেখানে শাহাদাৎ বরণ করেন।