ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

জাতীয় সংবাদ : উৎসব কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী * এক মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু : মোজাম্মেল হক * ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বনাঞ্চল ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আর্মেনিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী আটক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার সাথে জাতিসংঘের আলোচনা * ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১ *উ.কোরিয়ায় আটক জাপানী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার অঙ্গীকার ট্রাম্পের   |   খেলাধুলার সংবাদ : আইপিএল : রানার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো কলকাতা    |    বিভাগীয় সংবাদ : বানিয়াচংয়ে বাস খাদে, আহত ১০ * জয়পুরহাটে শিশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা *ভোলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা * নকলায় কৃষি ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে   |   

বিজয় ৭১ : ভারতের জোর বিমান হামলা, বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে মিত্রবাহিনী

ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর। অধিকৃত ঢাকার আকাশে দেখা যায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) বিমান।
লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করে আইএএফ। কিন্তু বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারি তাদের দিকে গোলাবর্ষণ করে। ব্যর্থ হয় আইএএফ।
দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুটিকয়েক বিমানকে আকাশে আইএএফকে চ্যালেঞ্জ করতে দেখা যায়। বিমান ঘাঁটিতে অবতরণের সময় এদের লক্ষ্য করে গোলা ছোঁড়া হলে শীতের আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
পাকিস্তান বাহিনীর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণও ছিল। আগের রাতে ভারতীয় বিমান বাহিনী ঢাকার তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দরে প্রচ- গোলাবর্ষণ করে। এতে রানওয়েগুলোতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে পাক বাহিনীর বিমানের ওঠানামাও ব্যাহত হয়।
পুরো দিনই আইএএফ পাক বাহিনীর কমান্ড, কন্ট্রোল ও কম্যুনিকেশন কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা অব্যাহত রাখে। দিন শেষে স্পষ্ট হয় যে পাক বিমান বাহিনী পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে নয়াদিল্লীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় বলেন, বিনাউস্কানিতে পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ চালিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত এবং পাকিস্তানের কারাগার থেকে (বঙ্গবন্ধু) শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত ভারত মুক্তিবাহিনীর পাশে থাকবে।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। হেনরি কিসিঞ্জার বলেন, আগে-পরে (অধিকৃত) পূর্ব পাকিস্তানের পতন হবে।
চীনকে সৈন্য মোতায়েন বা যে কোন ধরনের হুমকি প্রদানে রাজি করাতে না পেরে কিসিঞ্জার মনোক্ষুণ হন। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে বিমান পাঠাতে জর্দান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রাজি করাতে সক্ষম হয়। ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে একটি সাবমেরিন পাঠায়।
মার্কিন মিত্ররা পাকিস্তানের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে। এদের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রসমূহ।
এদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুটি দেশ তুরস্ক ও ইরানকে মস্কো হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে, পাকিস্তানের পক্ষ নিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। চীনকেও তারা হুঁশিয়ার করে দেয়। যুদ্ধে জড়ালে চীনের পশ্চিমাঞ্চল সিনকিয়াং দিয়ে আক্রমণ করার জন্য সোবিয়েট ইউনিয়ন তাদের সৈন্যদের নির্দেশ দেয়।
বিমান বাহিনীর সহায়তায় ভারতীয় নৌসেনারা বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে এবং সমুদ্রপথ দিয়ে কোন সহায়তা যাতে পাকিস্তানে না আসতে পারে তা নিশ্চিত করে।
স্থলযুদ্ধে মিত্রবাহিনী ভাল করতে থাকে। তারা দর্শনা ও কোটচাঁদপুর মুক্ত করে। বগুড়ায় ঢুকলে বাংলা হিলি দখল করে। জামালপুরের কামালপুরে পাকিস্তানি বিওপি আত্মসমর্পণ করে। সিলেটে মিত্রবাহিনী শমসের নগর বিমানবন্দর দখল করে। কুমিল্লায় সেনানিবাস বাই-পাস করে মিত্রবাহিনী পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া জংশনে পৌঁছে।
সন্ধ্যার পর ঢাকায় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় ভারতীয় বিমান বোমাবর্ষণ করলে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে মুহুর্মুহু বিস্ফোরনের আওয়াজ শোনা যায়।