ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : মুকসুদপুরে একই যন্ত্রের সাহায্যে এক সাথে ধানের চারা রোপণ ও দানাদার ইউরিয়া সার প্রয়োগ * মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ বেড়েছে * ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে   |   রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

বিজয় ৭১ : ভারতের জোর বিমান হামলা, বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে মিত্রবাহিনী

ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর। অধিকৃত ঢাকার আকাশে দেখা যায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর (আইএএফ) বিমান।
লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করে আইএএফ। কিন্তু বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারি তাদের দিকে গোলাবর্ষণ করে। ব্যর্থ হয় আইএএফ।
দ্বিতীয় দিনের যুদ্ধ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুটিকয়েক বিমানকে আকাশে আইএএফকে চ্যালেঞ্জ করতে দেখা যায়। বিমান ঘাঁটিতে অবতরণের সময় এদের লক্ষ্য করে গোলা ছোঁড়া হলে শীতের আকাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
পাকিস্তান বাহিনীর দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কারণও ছিল। আগের রাতে ভারতীয় বিমান বাহিনী ঢাকার তেজগাঁও ও কুর্মিটোলা এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গা বিমানবন্দরে প্রচ- গোলাবর্ষণ করে। এতে রানওয়েগুলোতে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে পাক বাহিনীর বিমানের ওঠানামাও ব্যাহত হয়।
পুরো দিনই আইএএফ পাক বাহিনীর কমান্ড, কন্ট্রোল ও কম্যুনিকেশন কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা অব্যাহত রাখে। দিন শেষে স্পষ্ট হয় যে পাক বিমান বাহিনী পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে নয়াদিল্লীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লোকসভায় বলেন, বিনাউস্কানিতে পাকিস্তান ভারতে আক্রমণ চালিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত এবং পাকিস্তানের কারাগার থেকে (বঙ্গবন্ধু) শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত ভারত মুক্তিবাহিনীর পাশে থাকবে।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন নীতি-নির্ধারকরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। হেনরি কিসিঞ্জার বলেন, আগে-পরে (অধিকৃত) পূর্ব পাকিস্তানের পতন হবে।
চীনকে সৈন্য মোতায়েন বা যে কোন ধরনের হুমকি প্রদানে রাজি করাতে না পেরে কিসিঞ্জার মনোক্ষুণ হন। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে বিমান পাঠাতে জর্দান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রাজি করাতে সক্ষম হয়। ইন্দোনেশিয়া পাকিস্তানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে একটি সাবমেরিন পাঠায়।
মার্কিন মিত্ররা পাকিস্তানের প্রতি সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখে। এদের মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রসমূহ।
এদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুটি দেশ তুরস্ক ও ইরানকে মস্কো হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলে, পাকিস্তানের পক্ষ নিলে পরিণতি ভয়াবহ হবে। চীনকেও তারা হুঁশিয়ার করে দেয়। যুদ্ধে জড়ালে চীনের পশ্চিমাঞ্চল সিনকিয়াং দিয়ে আক্রমণ করার জন্য সোবিয়েট ইউনিয়ন তাদের সৈন্যদের নির্দেশ দেয়।
বিমান বাহিনীর সহায়তায় ভারতীয় নৌসেনারা বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে এবং সমুদ্রপথ দিয়ে কোন সহায়তা যাতে পাকিস্তানে না আসতে পারে তা নিশ্চিত করে।
স্থলযুদ্ধে মিত্রবাহিনী ভাল করতে থাকে। তারা দর্শনা ও কোটচাঁদপুর মুক্ত করে। বগুড়ায় ঢুকলে বাংলা হিলি দখল করে। জামালপুরের কামালপুরে পাকিস্তানি বিওপি আত্মসমর্পণ করে। সিলেটে মিত্রবাহিনী শমসের নগর বিমানবন্দর দখল করে। কুমিল্লায় সেনানিবাস বাই-পাস করে মিত্রবাহিনী পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আখাউড়া জংশনে পৌঁছে।
সন্ধ্যার পর ঢাকায় পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থাপনায় ভারতীয় বিমান বোমাবর্ষণ করলে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে মুহুর্মুহু বিস্ফোরনের আওয়াজ শোনা যায়।