ঢাকা, বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

প্রধানমন্ত্রী : বাণিজ্য ব্যবস্থাকে অধিকতর টেকসই করতে কমনওয়েলথের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান * নীল অর্থনীতির সুফল পেতে প্রযুক্তি ও গবেষণা বিনিময়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর * প্রত্যাশা পূরণে চাই কমনওয়েলথ সংস্কার : প্রধানমন্ত্রী   |   প্রধানমন্ত্রী : রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করলেন জাস্টিন ট্রুডো * ব্রিটেনের রাণী এলিজাবেথের ২৫তম সিএইচওজিএম উদ্বোধন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যোগদান * লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর ১৩ গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর   |    জাতীয় সংবাদ : দেশের প্রয়োজন সৎ ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা : তথ্যমন্ত্রী * প্রবাসীদের ভোটার করার ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রধান সমস্যা : সিইসি * মৌলভীবাজারে আগর শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে : আমু   |   রাষ্ট্রপতি : পাঁচটি বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি   |    অর্থনীতি : অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে ১.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি * সিএনজি-থ্রী হুইলার্স করের আওতায় আসছে   |    জাতীয় সংবাদ : উৎসব কেন্দ্রিক পর্যটন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি : বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী * এক মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা শুরু : মোজাম্মেল হক * ২০২০ সালের মধ্যে দেশের বনাঞ্চল ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : আর্মেনিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভকারী আটক   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের নিরাপত্তা বিষয়ে সিরিয়া ও রাশিয়ার সাথে জাতিসংঘের আলোচনা * ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২ জনের মৃত্যু, আহত ২১ *উ.কোরিয়ায় আটক জাপানী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার অঙ্গীকার ট্রাম্পের   |   খেলাধুলার সংবাদ : শনিবার শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল *আইপিএল : রানার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠলো কলকাতা    |    বিভাগীয় সংবাদ : বানিয়াচংয়ে বাস খাদে, আহত ১০ * জয়পুরহাটে শিশু খাদ্য আইন ও বিধিমালা বিষয়ক অবহিতকরণ সভা *ভোলায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা * নকলায় কৃষি ইকোপার্ক গড়ে উঠেছে   |   

মুক্তিযুদ্ধে সিরাজগঞ্জের পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির

|| শহিদুল ইসলাম ফিলিপস ||
সিরাজগঞ্জ, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস ) : মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার ও আলবদরদের বিরুদ্ধে প্রিতিরোধ গড়ে তোলার জন্য সিরাজগঞ্জে গঠন করা হয়েছিল স্বতন্ত্র বাহিনী পলাশডাঙ্গা যুবশিবির ।
বৃহত্তর পাবনা, নাটোর ও বগুড়া জেলার কিয়দাংশ জুড়ে মুজিববাহিনী, মুক্তিবাহিনী এবং পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পারচালিত হয়েছে। মুজিববাহিনী, ও মুক্তিবাহিনী ও এ দুটো দল ভারত থেকে ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়ে নিজেদের সঙ্গে গোলা বারুদ ও অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে আসলেও যুবশিবিরের দেশের ভেতরেই প্রশিক্ষন নেন এবং স্বতন্ত্র বাহিনী গড়ে তোলেন। এ যোদ্ধাদের হাতিয়ারের উৎস ছিল বিভিন্ন থানা আক্রমন, রাজাকার ও পাক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে নেয়া অস্ত্র শস্ত্র।
পলাশডাঙ্গা যুবশিবির প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভুমিকায় ছিলেন, আমির হোসেন ভুলু, সোহরাব আলী, মনিরুল কবির, লুৎফর রহমান মাখন, তাড়াশ-রায়গঞ্জ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মম আমজাদ হোসেন মিলন, বিমল কুমার দাস, আজিজ সরকার প্রমুখ।
পরবর্তীকালে এই শিবির আরো শক্তিশালী হয় এবং যুবকর্মী যোগ দেন। জুন মাসে এই সংগঠনে যোগ দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ মির্জা ও সিগন্যাল ফোর এর সৈনিক প্রয়াত লুৎফর রহমান অরুন। তাদের সম্বল ছিল মাত্র ৮টি ৩০৩ রাইফেল এবং হালকা মেশিনগান।
যুবশিবিরে ৪৫৬ জন যোদ্ধা প্রয়াত লতিফ মির্জার নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে এক অনন্য অবদান রাখেন। সিগন্যাল ফোর এর লুৎফর রহমান (ছদ্ম নাম অরুন কুমার) ছিলেন শিবিরের ব্যাটলিয়ন কমান্ডার। তার কাছ থেকে উন্নত ট্রেনিং নিয়েই শিবিরের যোদ্ধারা বহু সফল অভিযান পরিচালনা করেন।
একাত্তরের ১৭ জুন ভোরে কামারখন্দ থানার ভদ্রঘাট এলাকার যুবশিবিরের উপর পাক হায়নারা অতর্কিত হামলা চালায়। যুবশিবির এর মাত্র ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশের কাছে ৫০/৬০ জন পাক সেনা এতে নিহত হয়। মাত্র ২ জন মুক্তিযোদ্ধা সামান্য আহত হন। একসময় শত্রুবাহিনী পিছু হটে যায়।
পলাশডাঙ্গা যুব সেনাদের প্রথম অপারেশন ছিল একাত্তরের ৫ জুলাই তারিখে । যুব শিবিরের সেনারা এদিন গেরিলা পদ্বতিতে ফরিদপুর থানায় আক্রমন চালায়। তাদের তীব্র আক্রমনে ওসি সহ ৫জন এ অপারেসনে নিহত হন। এছাড়াও প্রচুর গোলাবারুদ সহ ৭টি ৩০৩ রাইফেল ও ১টি রিভালবার উদ্ধার করা হয়।
জুলাই মাসের শেষে প্রান্তে পলাশডাঙ্গা যুব সেনার ছোট্ট একটি দল চাটমোটর থানার ষ্টেশন ও মুলাডুলি রেল ষ্টেশনের মাঝে ডিনামাইট বসিয়ে কয়েকটি বগী বিচ্ছিন্ন করে শত্রু সেনাদের যোগাযোগ বিছিন্ন করে দেয়।
আগষ্ট মাসের শেষের দিকে একই রকম আক্রমন চালানো হয় দিল পাশার শরৎ নগরে। লক্ষ্য ছিল, রেলষ্টেশনের মাঝামাঝি কই ডাঙ্গা ব্রীজের পাহাড়ারত রাজাকারদের উপর। সারা মাঠ ঘাট বন্যায় প্লাবিতনৌকার ভিতরে মাত্র নয় জন যুব সেনা হাতে ২টি ৩০৩ রাইফেল ও ৩টি হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রু সেনাদের উপর।
এই সংঘর্ষে ১১ জন রাজাকারকে হত্যা করা হয়। কই ডাঙ্গা ব্রীজের আক্রমন চালানোর একদিন পরেই উল্লাপাড়া থানার লাহিড়ী মোহনপুর ও দিলপাশার রেলষ্টেশনের মাঝে দত্তকোলা রেল ব্রীজে আক্রমন চালিয়ে ৭ জন রাজাকারকে হত্যা করা হয়। এ আক্রমনে উদ্ধার করা হয়েছিলো ৩০৩টি রাইফেল।
পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজিজ মির্জা, আব্দুল বাকী মির্জা, চৌধুরী ইখতিয়ার মবিন পর্ শিবিরে যোগদানের পরে আরো শক্তিশালী হয় পলাশডাঙ্গা যুবশিবিরের যোদ্ধারা।
৭১ এর সেপ্টেম্বর যুব শিবিরের সেনারা বগুড়া জেলার ধুনাট থানায় শক্তিশালী শত্রু সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। সকাল ৮ টা থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। সেখানে ৭জন পাক সেনা, ১৪ জন রাজাকার নিহত হয়। পাক সেনারা স্থানীয় দালালদের সহায়তায় নিরস্ত্র মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল। সংবাদ পেয়ে যুবশিবিরের যোদ্ধারা নির্যাতনকারী বাহিনীর উপর আক্রমন করে ।
৪ অক্টোবর নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানায় রাজাকারদের কাছিকাটা ক্যামেপ বসেছে এ সংবাদ পেয়ে শিবিরের যোদ্ধারা ভাসমান নৌকা যোগে রাজাকারদের ক্যাম্পের সন্নিকেটে পৌছায়। তখন রাত দেড়টা। রাজাকাররা লুটের মাল ভাগা বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত। তখনই শিবিরের যোদ্ধাদের বন্দুক থেকে ছোড়া হয় কয়েকটি বুলেট। কাছিকাটা রাজাকার ক্যাম্পে মুহুর্তে ১০ জন রাজাকার নিহত হয়।
এভাবে যুব শিবিরের যোদ্ধারা বিজয়ের আগ পর্যন্ত নিজস্ব শক্তিতে সিরাজগঞ্জের অনেক স্থানে পাক বাহিনীর সাথে সমুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন।
শেষ মরন জয়ী সম্মুখ যুদ্ধটি সংগঠিত হয় ১১ নভেম্বর তাড়াশ থানায় । শিবিরের সদস্যরা শত্রুর কাছ থেকে ছিনিয় নেয়া অস্ত্র শস্ত্রে অনেকটা শক্তিশালী হয়ে ভোর ৬টায় পাক সেনাদের ক্যাম্পে হামলা চালায়। তুমুল যুদ্ধ চলে। সে যুদ্ধে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের যোদ্ধারা হানাদারদের ব্যুহ ছিন্ন বিছিন্ন করে দেশের বৃহত্তম যুদ্ধে ১৫৩ জন হানাদার বাহিনীর সদস্যও ৬৭ জন রাজাকারকে হত্যা করে। উদ্ধার করে ১টি ভারী মেশিনগান, ২টি ২ইঞ্চি মর্টার, ১টি বাইনোকুলার এবং অসংখ্য চাইনিজ রাইফেল।
মুক্তি যুদ্ধে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের এসব ভুমিকা এখনো কিংবদন্তী হয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ।