ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

আরো এক সপ্তাহ আগে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হতে পারতো : সাংবাদিক গ্যাভিন ইয়াং

ঢাকা, ১ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : যুদ্ধ আরো এক সপ্তাহ আগে শেষ হতে পারতো, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জেনারেল নিয়াজীকে (ঢাকাস্থ তৎকালীন পাকিস্তানী কমান্ডার) বুঝিয়েছিলেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র এখানে হস্তক্ষেপ করবে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য অবজার-এর রিপোর্টার গ্যাভিন ডেভিড ইয়াং যিনি মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ দিন ঢাকায় ছিলেন এবং এ এ কে নিয়াজী ও অন্যান্য পাকিস্তানীদের খুব কাছাকাছি ছিলেন তিনি তার লেখায় বিষয়টি খোলাসা করেন।
২০০১ সালের ২৮ জানুয়ারি পরলোকগত ইয়াং দ্য অবজারে লিখেছেন পূর্বাঞ্চলের জেনারেলরা ১০ ডিসেম্বর যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দেয়ার এবং নির্বাচিত বাঙালি নেতৃবৃন্দের কাছে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত ছিলেন। তারা এ মর্মে ইয়াহিয়ার কাছে খবরও পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু চীন ও আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষে সামরিক অভিযান চালাবে এমন বক্তব্য দিয়ে ওই প্রস্তাব নাকচ করে দেন।
নিয়াজী ইয়াংকে বলেছেন, আমরা নিরুপায় এবং এর মধ্যদিয়ে আগেভাগে যুদ্ধবিরতির আশা শেষ হয়ে গেলো।
দুদফা পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী এ্যান্তনি লিউইস তার অবিস্মরণীয় শীর্ষক নিবন্ধে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেন। ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ এ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। আমেরিকার সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত লিউইস ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ পরলোকগমন করেন।
তিনি তার নিবন্ধে বলেন, প্রকাশ্যে কিছুই না বলে ইয়াহিয়া খান যখন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেন এবং সৈন্যরা হাজার হাজার বাঙালীকে হত্যা করে কয়েক লাখ লোক শরণার্থী হয়ে দেশ ত্যাগ করে তখন মিস্টার খানের ওপর স্বল্প-বিস্তর প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের ছিলো।
নিবন্ধে আরো বলা হয়, শেখ মুজিবের (জাতির জনক) অবস্থান জানিয়ে দেয়ার আরেকটি বিষয় ছিলো। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তার গ্রেফতারের নিন্দা জানায়নি। সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইয়াহিয়া খানের কোনো রাজনৈতিক বিকল্প নেই। কিন্তু এখন পাকিস্তানের সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান আসগর খান (যিনি একজন রাজনীতিক ও ভারতের পুতুল হিসেবে পরিচিত) বলেন যে, ইয়াহিয়া কখনোই শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করবেন না এবং মুজির তাঁর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বিবৃতি দিতে পারেন।
ভারতীয়দের জন্য এটা সন্দেহাতীত সত্য ছিলো যে, তাদের মধ্যে একটি হিংস্রতা ছিলো। কিন্তু শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় কতিপয় জেনারেলের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে ওই প্রতিনিধি তাদের একটি সংযমী গ্রুপ হিসেবেই দেখতে পান। পাকিস্তানীদের প্রতি তাদের জন্য তাদের সহমর্মিতা ও এক ধরনের সমঝোতাও ছিলো এবং তাদের দেশটি ধ্বংস করার কোনো ইচ্ছাও তাদের ছিলো না। অবশ্য কতিপয় সেনা এমনকি একটি জটিল আবেগঘন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ কামনা করতেন।

সম্পর্কিত সংবাদ