ঢাকা, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আন্তর্জাতিক সংবাদ : নির্ধারিত সময়ে কম্বোডিয়ার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী   |   

আগামীকাল ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস

ঠাকুরগাঁও, ২ ডিসেম্বর ২০১৪ (বাসস) : আগামীকাল ৩ ডিসেম্বর, ঠাকুরগাঁও মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে ঠাকুরগাঁও মহকুমা প্রথম পাক হানাদার বাহিনী মুক্ত হয়।
২ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড গোলাগুলির পর শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইলে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোর রাতে ঠাকুরগাঁও শহর শত্রুমুক্ত হয়।
এর আগে, একাত্তরের ২৫ মার্চ পাক হানাদার বাহিনীর ঢাকায় গণহত্যার সংবাদ পৌছার পরই ঠাকুরগাঁও শহরে মুক্তিকামী জনতার এক বিশাল মিছিল বের হয়। সেই মিছিলেই থাকা রিক্সাচালক মোহাম্মদ আলী পাক বাহিনীর সৈন্যদের প্রতিরোধের মুখে বজ্রকন্ঠে জয় বাংলা ধ্বনি তুলে প্রথম শাহাদাৎবরণ করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে পাক হানাদারমুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে উদীচী, ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বেশ কিছু সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আনন্দ শোভাযাত্রা, শহীদদের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভের বেদীমূলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
একাত্তরে ঠাকুরগাঁও ছিল উত্তরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দিনাজপুর জেলার একটি মহকুমা। বর্তমান ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার ১০টি থানা ছিল এই মহকুমার অন্তর্গত। হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওবাসী গড়ে তুলেছিল দুর্বার প্রতিরোধ। এই প্রতিরোধের কারণেই ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে পাক হানাদার বাহিনী প্রবেশ করতে পারেনি ।
১৫ এপ্রিল ১০টি ট্রাক ও ৮টি জিপে করে মুহূর্মুহু শেল বর্ষণ করতে করতে ঠাকুরগাঁও শহরে ঢুকে পড়ে হানাদার বাহিনী। তবে, তেতুলিয়া থানাকে কেন্দ্র করে ১৫০ বর্গমাইলের একটি মুক্তাঞ্চল গড়ে ওঠে, যেখানে পাক বাহিনী কখনও ঢুকতে পারেনি। সেখান থেকেই পরিচালিত হয় চূড়ান্ত লড়াই।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনী অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। এই হত্যাকা-গুলোর মধ্যে সব থেকে বড় হত্যাকা-টি সংঘটিত হয় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জাঠিভাঙ্গা গ্রামে। সেখানে এক দিনে প্রায় ৩ হাজার লোককে হত্যা করা হয় । এখানে যে গণকবর আবিষ্কৃৃত হয়েছে সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
আর একটি গণকবর রানীসংকৈল উপজেলার খুনিয়াদিঘী। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে পাক হানাদার বাহিনী ওই এলাকায় যে সব লোককে হত্যা করে তাদেরকে ওই পুকুরে ফেলে দেয়া হয়। ওখানেও প্রায় ৩ হাজার লোককে হত্যা করা হয়। খুনিয়াদিঘীতেও একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ