ঢাকা, মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৬, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

আবহাওয়া : আগামীকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চলের শৈতপ্রবাহ কেটে যেতে পারে   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : জাপানের জলসীমায় ভেসে আসা নৌকা থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার * লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে অবৈধ ৩৬০ শরণার্থী উদ্ধার   |   

পিরোজপুরের খেতাবপ্রাপ্ত পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কেউ বেঁচে নেই

॥ গৌতম চৌধুরী ॥
পিরোজপুরের খেতাবপ্রাপ্ত পাঁচ মুক্তিযোদ্ধার কেউ বেঁচে নেই
পিরোজপুর, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪ (বাসস) : একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পিরোজপুরের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে বর্তমানে কেউ বেঁচে নেই। তবে আছে তাদের বীরত্বগাঁথার কথা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাদের মহাবীর আখ্যা দিয়ে খেতাব প্রদানের দলিলে স্বহস্তে ঐতিহাসিক স্বাক্ষর দিয়েছিলেন পিরোজপুরে তাদের কেউই এই বিজয়ের মাসে বিজয় উল্লাস করার জন্য বেঁচে নেই। সহযোদ্ধা আর প্রিয়জনদের হৃদয়ে বেঁচে আছে শুধুই তাদের স্মৃতি।
এই বীরেরা হলেন- মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমাম বীরবিক্রম, মো. আনিছ মোল্লা বীরবিক্রম, শহীদ আবুল কাশেম হাওলাদার বীরবিক্রম, এম এ খালেক বীরপ্রতীক ও আলী আকবর বীরপ্রতীক।
এদের মধ্যে আবুল কাশেম হাওলাদার বীরবিক্রম, ভান্ডারিয়ার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সে সময়ে ইপিআর এ চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালে রাজশাহী ইপিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কাশেম ঝাঁপিয়ে পড়েন স্বাধীনতা যুদ্ধে। ৭ নং সেক্টরের অসংখ্য যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে পরিচয় দেন অসীম সাহসের। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের তীব্রতায় পাকবাহিনী পিছু হটতে থাকলে কাশেম জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। এ সময় শত্রুদের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাটিতে পড়েও সহযোদ্ধাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন। একটু পরেই নিভে যায় তার প্রাণপ্রদীপ। তার বীরবিক্রম খেতাব নম্বর ১০৯।
মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমামের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালীতে। ৯ নমবর সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টর কমান্ডার মেহেদী ছিলেন পাক হানাদারদের ত্রাস। অসংখ্য যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের ধরাশায়ী করেন। ১৯৯৬ সালের স্বাধীনতার মাসে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বীরবিক্রম খেতাব নম্বর ১৪।
জেলার ভান্ডারিয়ার শিয়ালকাঠীতে জন্ম নেয়া এম এ খালেক পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ার-এর বৈমানিক ছিলেন। ২৫ মার্চ তিনি বিমান চালিয়ে ঢাকা আসেন এবং সে রাতেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। মুক্তিবাহিনীর নিজস্ব বিমানবাহিনী গঠনে তার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। তার বীরপ্রতীক খেতাব নম্বর ৩০৪।
মঠবাড়িয়ার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আনিচ মোল্লা। রংপুরে ইপিআর উইং-এ কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরো ৯ মাস ৬ নম্বর সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের সবকটি সম্মুখযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদান রাখেন। তার বীরবিক্রম খেতাব নম্বর ১০১।
ভান্ডারিয়ার গৌরীপুরের সন্তান আলী আকবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরিতে ছিলেন। সৈয়দপুর সেনানিবাসে ৩১ মার্চ ৩২ পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে জুলাই মাসের মাঝামাঝি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১২ সালের জানুয়ারীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বীরপ্রতীক খেতাব নম্বর ৮২।
মঠবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, মেজর মেহেদী ও আনিচ মোল্লার স্বপ্ন ছিলো এই বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দেখবেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এই দুইজন বীর যোদ্ধা তা দেখে যেতে পারলেন না। ভান্ডারিয়ার কমান্ডার মো. তৈয়ব আলী বলেন, এই বিজয়ের মাসে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করবেন।
বাসস/সংবাদদাতা/কেসি/১৬২৫/আহা/-এইচএ

সম্পর্কিত সংবাদ