ঢাকা, শুক্রুবার, এপ্রিল ২০, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : বরগুনায় ধারাবাহিক ভাবে সূর্যমুখীর চাষ চলছে   |   প্রধানমন্ত্রী : টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় শেখ হাসিনা   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় ৮৩ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড কার্যকর * বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ায় কাঠমান্ডু বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা * দেশে অস্থিরতার কারণে ব্রিটেন সফর সংক্ষিপ্ত করলেন দ.আফ্রিকার নেতা   |   

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠনে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আজ এক বাণীতে তিনি এ আহবান জানান। আগামীকাল যথাযোগ মর্যাদায় এ দিবস পালিত হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসী ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ১৭ এপ্রিল এক স্মরণীয় দিন। তিনি এই মাহেন্দ্রক্ষণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন । জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে তিনি স্মরণ করেন, যাঁদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মুজিবনগর সরকার পরিচালনার মাধ্যমে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
এছাড়া আবদুল হামিদ মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ত্রিশ লক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, শহিদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ও সমর্থনকারী সকল স্তরের আপামর জনগণকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন ।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিসংগ্রামের যে পথ চলা শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আ্রকাননে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
তিনি বলেন, মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭০ এর নির্বাচনে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে একটি সাংবিধানিক সরকার আত্মপ্রকাশ করে। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। জনমত সৃষ্টি, শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা ও যুদ্ধের রণকৌশল নির্ধারণে মুজিবনগর সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে তা বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাথাঁর স্বাক্ষর হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে, পেয়েছে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ বিশ্ববাসীর কাছে রোল মডেল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তিক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। স্বপ্নের পদ্মাসেতু আজ দৃশ্যমান। অচিরেই মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। সরকার উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরো বেগবান করতে রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ ঘোষণা করেছে।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার দেশকে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে অবদান রাখবে।