ঢাকা, রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম 

বিভাগীয় সংবাদ : মুকসুদপুরে একই যন্ত্রের সাহায্যে এক সাথে ধানের চারা রোপণ ও দানাদার ইউরিয়া সার প্রয়োগ * মাগুরায় উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ বেড়েছে * ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘর উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে   |   রাষ্ট্রপতি : বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণ    |    জাতীয় সংবাদ : আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সমাপ্ত   |    আন্তর্জাতিক সংবাদ : চিলিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প * কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহত ৫ : আফগান গোয়েন্দা সংস্থা *যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অর্থায়নে সোমবার ভোট *   |   খেলাধুলার সংবাদ : নেইমারকে নিয়ে জিদানের আশাবাদ * হ্যাজার্ডের দুই গোলে চেলসির জয় * আইপিএল নিলামে অংশ নিবেন ৫৭৮ জন খেলোয়াড়   |   

নাটোরে চার লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার বই

নাটোর,২০ ডিসেম্বর ২০১৭ (বাসস) : আসন্ন ২০১৮ শিক্ষা বছরের প্রথম দিনে নাটোর জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে চার লাখ ১৬ হাজার ২০৫ শিক্ষার্থীর হাতে ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০টি নতুন পাঠ্য বই পৌঁছনো হবে। প্রস্তুতি হিসেবে বর্তমানে জেলা শিক্ষা অফিস এবং সাতটি উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ২ হাজার ১০৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিদের নিকট ইতোমধ্যে এসব বই বিতরণ কার্যক্রম চলছে নিরবছিন্নভাবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের মোট এক হাজার ৬১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই লাখ এক হাজার ৬৫০ শিক্ষার্থীর জন্য প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য বইয়ের চাহিদা ৯ লাখ ৫০ হাজার ১০০ কপি। ইতোমধ্যে চাহিদার প্রায় শতভাগ বই ঢাকা থেকে জেলার সকল উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে গত রোববার থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা তাদের প্রতিনিধিদের নিকট চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্য বই বিতরণ শুরু হয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মাদ্রাসা, কারিগরিসহ মোট ৪৯৬টি মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে আসন্ন শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৫৫ জন। এসব শিক্ষার্থীর চাহিদা অনুযায়ী ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৫৪০ কপি পাঠ্য বইয়ের বেশিরভাগ বই ঢাকা থেকে নাটোরে এসে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সংশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রধানের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়েছে। তবে ভোকেশনাল পর্যায়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পাঠ্য বই জেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
জেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানের বই সংগ্রহকালে কথা হয় দিয়ারভিটা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং বাকশোর আইডিয়াল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর হায়দার আলীর সাথে। তাঁরাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও তাদের প্রতিনিধিবৃন্দ বই বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, আগামী ১ জানুয়ারী ২০১৮ বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি অভিভাবক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই হস্তান্তর করা হবে। একই আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আমিরুল ইসলাম।
নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা বলেন, ৭ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নতুন বইয়ের জন্য অপেক্ষায় আছি। এক সাথে অনেকগুলো নতুন ক্লাসের বই আর তার গন্ধ অনন্য। বছরের প্রথম দিনে বইয়ের ব্যবস্থা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান নাটোর সরকারি বালক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন।
অভিভাবক সুগন্ধা সরকার বলেন, আমাদের সময়ে টেক্স বই পাওয়া এত সহজ ছিল না। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বা বইয়ের দোকানে এক সাথে নয় পর্যায়ক্রমে একাধিক দিনে বইগুলো সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু এখন সরকার একই সাথে সব বই একই দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এটি একটি অনন্য উদ্যোগ।
নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, বর্তমান সরকারের অনন্য সফলতার মধ্যে সময়মত শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া অন্যতম। শিক্ষার্থীরা যথাযথ ভাবে পড়াশুনা করে যোগ্য নাগরিক হয়ে গড়ে উঠলে সরকারের এই উদ্যোগ অর্থবহ হবে।