নৌ রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে : খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

70

সংসদ ভবন, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ (বাসস) : নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের বিভিন্ন নৌ রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আজ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মুজিবুল হকের অনুপস্থিতিতে জাসদের হাসানুল হক ইনুর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন নৌ রুটে বর্তমানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মোট ৫০টি ফেরি চালু রয়েছে। ফেরির সংখ্যা আরো বাড়াতে বেশকিছু উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো হলো- পাটুরিয়া সেক্টরে ২০টি, শিমুলিয়া সেক্টরে ১৮টি, চাঁদপুর সেক্টরে ৫টি, ভোলা সেক্টরে ৩টি ও লাহারহাট সেক্টরে ৪টিসহ মোট ৫০টি।
তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিসি পরিচালিত বিভিন্ন ঘাটে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ২টি উন্নতমানের কে-টাইপ ফেরি নির্মাণাধীন রয়েছে। এ দু’টি ফেরি ২০২০ সালের জুন নাগাদ সার্ভিসে নিয়োজিত করা হবে। বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব অর্থায়নে ২টি মিডিয়াম ফেরি নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে, যার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে।
এছাড়াও বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক জলযান সংগ্রহ, ৮টি সহায়ক জলযান এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬টি ইমপ্রুভড ইউটিলিটি ফেরি ও ৬টি ইমপ্রুভড কে-টাইপ ফেরি নির্মাণ করা হবে। ফেরিগুলো নির্মাণ শেষে ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে সার্ভিসে নিয়োজিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
সরকারি দলের সদস্য দিদারুল আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানান, নৌ দুর্ঘটনা রোধ এবং দুর্ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হচ্ছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত ছোট-বড় সকল ধরনের মোট ৬৩৯টি নৌ দুর্ঘটনায় ৪৭৩২ জন নিহত হয়। মেরিন কোর্টে এই সময়ে দুর্ঘটনাসহ নৌযান পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের জন্য মোট ২৬ হাজার ৮৯৭টি মামলা হয়েছে, এরমধ্যে নৌ দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৪৮টি। নৌ দুর্ঘটনার ২০৪টি মামলায় দোষী সাবস্ত হওয়ায় বিভিন্ন মেয়াদে আসামীদের জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে।

image_printPrint