সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে আনসার, ভিডিপিকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শফিপুর, গাজীপুর, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ (বাসস): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক প্রতিরোধে সতর্ক থাকার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ সকালে একাডেমি প্রঙ্গনে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি বাহিনীটির ৩৯তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক প্রতিরোধে আমাদেরকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের বৃহত্তম বাহিনীর হিসেবে আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে আপনাদের একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। আপনাদেরকে সর্বোচ্চ সততা, সাহস ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ পূর্বশর্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র একটি চৌকস দলের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী শরীফ কায়কোবাদ তাঁকে স্বাগত জানান।
এ সময় মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাম-লী, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশ ও জনগণের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ‘একটি বাড়ি-একটি খামার’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যাতে গ্রামীণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছ্বল হয়ে ওঠে এবং কোন জমি অনাবাদি না থাকে।
আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই খাতে যথেষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচিটির পুনঃনামকরণ করা হয়েছে ‘আমার বাড়ি- আমার খামার’।
তিনি বলেন ‘যেহেতু এই বিষয়ে আপনাদের প্রশিক্ষণ আছে, সেজন্য এই প্রকল্পে আপনারা আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। আপানারা যেন এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছ্বলতা অর্জন করতে পারেন, সেজন্য আমি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে বলেছি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে দারিদ্র্য নির্মূল করার জন্য আমরা বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্ঠনি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি’।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সফলতা ধরে রাখার জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ক্রমশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কারণ তাঁর সরকার বিভিন্ন বাস্তব সম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের আরো উন্নতি করতে চাই, এজন্য সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
দেশের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যদের ভুমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,দেশের জরুরী ও সংকটময় মুহুর্তে তারা তাদের কাজের দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছে।
তিনি আরো বলেন,জঙ্গিবাদ ও মাদক নিয়ন্ত্রনসহ বিভিন্ন জাতীয় এবং সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্টানে আপনারা আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সর্ব্বোচ আন্তরিকতার সঙ্গেকাজ করে যাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন,বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ও স্থাপনা রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে আনসার ও ভিডিপির ৫৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এর আগে শেখ হাসিনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনে সাহসী ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশ আনসার ও ভিওিডপি সদস্যদের হাতে বাংলাদেশ আনসার পদক, রাষ্ট্রপতি আনসার পদক, রাষ্ট্রপতি ভিডিপি পদক, বাংলাদেশ আনসার সার্ভিস পদক, রাষ্ট্রপতি আনসার সার্ভিস পদক, বাংলাদেশ ভিডিপি সার্ভিস এবং রাষ্ট্রপতি ভিডিপি সার্ভিস পদক তুলে দেন।
পরে শেখ হাসিনা আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পরিবেশিত একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। তিনি আনসার কর্মকর্তা ও সদস্যদের ’দরবারেও’ যোগদান করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগের পর প্রধানমন্ত্রী আনসার ও ভিডিপি সদস্য ও তাদের সন্তাদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক কর্মকা- প্রদর্শনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
তাঁর সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করবে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য গ্রাম্য জনগোষ্ঠিকে নাগরিক সুবিধা উপভোগ করানো। তারা উন্নত ও সুন্দর জীবন যাপন করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের আজকের শিশুদের ভবিষ্যত আরো সুন্দর, উজ্জ্বল ও প্রযুক্তি ভিত্তিক হয়ে উঠবে।’
প্রধানমন্ত্রী উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
‘তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবরূপ দেয়াই আমাদের অঙ্গীকার। আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছি এবং ভবিষ্যতে দারিদ্যমুক্ত করবো। বাংলাদেশ আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে আমি সকলের সহযোগিতা কামনা করি।’ তিনি বলেন, তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা প্রতিটি গ্রামকে বদলে দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, তাই আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা এমন ভাবে গড়ে তুলব যাতে করে আমাদের মাথা সমুন্নত থাকে ও কারো কাছে হাত পাততে না হয়। আমরা আমাদের সম্পদ কাজে লাগাবো ও নিজের পায়ে দাঁড়াবো।’
শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দুটি শিশুকে আনসার ও ভিডিপি সদস্য লেকে নৌকায় নাচতে দেখে আবেগ তাড়িত হয়ে পরেন। তিনি বলেন, নৌকা দেখে তাঁর ছেলেবেলার স্মৃতি মনে পড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি যখন নৌকা দেখি তখন আমার চোখে ছেলেবেলার স্মৃতি ভেসে ওঠে। যখন অবসরে যাব তখন আমি গ্রামে বসবাস করবো এবং এটা আমার সিদ্ধান্ত। আমি আমার পূর্বপুরুষের গ্রামে টুঙ্গিপাড়া থাকব।’