ছয়দিনে বাংলা একাডেমির স্টলে ২৫ লাখ টাকার বই বিক্রি

ঢাকা, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ (বাসস) : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এবার ছয়দিনে বাংলা একাডেমির নিজস্ব স্টলে ২৫ লাখ সাড়ে আট হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গত মেলায় ছয়দিনে একাডেমির বিক্রি ছিল ১৮ লাখ তিন হাজার টাকা। এবারের ছয়দিনে বিক্রি ৭ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনের জন্য বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে স্থায়ী মাঠ অথবা জায়গা বরাদ্দ দেয়ার জন্য একাডেমির পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহবান জানান হয়েছে। স্থায়ী জায়গা বরাদ্দ পেলে মেলার স্থাপনা নির্মাণ এবং অন্যান্য নির্মাণ ব্যয়ে বিপুল টাকা সাশ্রয় হবে ।
অমর একুশের গ্রন্থমেলা উপলক্ষে আজ বাংলা একাডেমি আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান হয়। এতে চলতি গ্রন্থমেলার ছয়দিনের সার্বিক অবস্থা উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী এবং মেলা কমিটির সদস্য সচিব ও একাডেমির পরিচালক ড. জালাল আহমদ।
মহাপরিচালক বলেন, বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। সবার মেলা। মেলার মূল বিষয় হচ্ছে বই প্রকাশ ও বিক্রি। ছয়দিনে বাংলা একাডেমির বিক্রি গতবারের চেয়ে ৭ লাখ টাকা বেড়েছে। আমরা আশা করছি মেলার সকল স্টলেই বিক্রি গতবারের চেয়ে এবার বৃদ্ধি পাবে। একাডেমির আকাংখা হচ্ছে, মানের দিক থেকে ভাল বই প্রকাশ এবং ভাল প্রকাশক বৃদ্ধি পাক। এবারের মেলায় এ পর্যন্ত প্রকাশিত ৮ শতাধিক বইয়ের মধ্যে মান সম্পন্ন বইয়ের সংখ্যাও কম নয়।
ড. জালাল আহমদ বলেন, একাডেমির ছয়দিনের বই বিক্রির হিসাব আমরা দিয়েছি। অন্যান্য স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতেও বিক্রির অবস্থা মেলা কমিটির পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মেলা শেষে সব স্টলের বিক্রির তথ্য মিডিয়াকে জানানো হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মেলার সার্বিক অবস্থা ইতিবাচক। মেলায় প্রকাশিত প্রতিদিনের নতুন বই একাডেমিতে জমা দিচ্ছেন প্রকাশরা। প্রতিদিনই বই প্রকাশের সংখ্যা বাড়ছে। বিক্রিও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আজ সপ্তম দিনে মেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ১৬১টি। এ নিয়ে সাতদিনে মোট ৮৩২টি নতুন বই প্রকাশিত হলো। র্শীর্ষে রয়েছে কবিতার বই ১৭৯টি। এর পরই রয়েছে শিশুতোষ ১৩৪, উপন্যাস ১১৩, গল্পের বই ১১৪টি, প্রবন্ধ ৬৬, বিজ্ঞান ৩৬, মুক্তিযুদ্ধ ২৯। আজ প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে, সৈয়দ শামসুল হকের কবিতার বই ‘নাইলন গোলাপ টেবিলে, মহাদেব সাহার কবিতার বই ‘কোথা পাই দিব্যজ্ঞান’ মুনতাসির মামুনের ‘তাজউদ্দিন : এক যুবকের রাজনীতিবিদি হয়ে উঠা (অনন্যা), রফিকুল ইসলামের ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ ’এবং হাসনাত আবদুল হাই’এর ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ (আগামী), আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু কথা’ এবং গোলাম মুর্শিদের ‘শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ (কথা প্রকাশ), সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলামের ‘ কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প’ (অন্য প্রকাশ), মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘সায়েন্স ফিকশান-ষষ্ঠ খন্ড (প্রতীক প্রকাশনা)।
মেলার মূলমঞ্চে আজ ‘ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাই: জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৌমিত্র শেখর। আলোচনায় অংশ নেন মনিরুজ্জামান, জীনাত ইমতিয়াজ আলী, শহীদ ইকবাল ও তারিক মনজুর। সন্ধ্যায় কবিকন্ঠে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন কবি রুবী রহমান ও শিহাব সরকার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহফুজ মাসুম এবং কাজী বুশরা আহমেদ তিথি। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, কান্তা নন্দী, সন্দীপন দাস, সাজেদ ফাতেমী, শান্তা সরকার এবং মোঃ নূরুল ইসলাম।