বিগত দু’বছরে একটি হাইব্রিডসহ মোট ১২টি উফশী ধানের জাত উদ্ভাবন ব্রি’র

230

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ (বাসস) : দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বিগত দু’ বছরে একটি হাইব্রিডসহ মোট ১২টি উচ্চ ফলনশীল (উফশী) ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।
যার মধ্যে- ব্রি ধান৮৪, ব্রি ধান ৮৫, ব্রি ধান৮৬, ব্রি ধান৮৭, ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান ৬ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
নতুন উদ্ভাবিত ১২টি জাতের মধ্যে চারটি রোপা আমন, তিনটি রোপা আউশ এবং পাঁচটি বোরো মওসুমে চাষ উপযোগী।
এসব জাত হেক্টর প্রতি গড়ে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ টন ফলন দিতে সক্ষম। তবে এর মধ্যে ব্রি ধান৮৯ সর্বোচ্চ ১০ টন ফলন দিতে সক্ষম হয়েছে।
গাজীপুরে অবস্থিত ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর আজ শনিবার বাসস’কে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের এখন আর ভাতের কোন অভাব নেই। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৬২ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। দেশের বিদ্যমান জনসংখ্যা ও মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির খাদ্য চাহিদা পূরণের পরও গত বছর আমাদের ২৬ লাখ ৭০ হাজার টন চাল উদ্বৃত্ত ছিল।”
ব্রি মহাপরিচালক জানান, বর্তমানে দেশের ৮০ ভাগ জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত ধানের চাষাবাদ হয় এবং এর থেকে দেশের মোট ধান উৎপাদনের শতকরা ৯১ ভাগ আসে।
ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের জন্য ব্রি’র গবেষকরা নিরলসভাবে গবেষণা কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই ‘রাইস ভিশন ২০৫০’ প্রণয়ন করেছি।”
ব্রি’র কর্মকর্তারা বাসস’কে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রি উদ্ভাবিত অন্যান্য জাতের ধানের মধ্যে আছে, দেশের অনুকূল পরিবেশে চাষযোগ্য জাত ব্রি ধান৭৫ এবং ব্রি ধান৮০, যার চাল সরু এবং সুগন্ধযুক্ত। পাশাপাশি ব্রি ধান৭৬ ও ব্রি ধান৭৭ অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা এলাকায় চাষ উপযোগী। পক্ষান্তরে ব্রি ধান৭৮ লবণাক্ত জোয়ার-ভাটা এলাকায় চাষ উপযোগী জাত। ব্রি উদ্ভাবিত দানাদার ইউরিয়া প্রয়োগযন্ত্রটি সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের পেটেন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ড. মো. শাহজাহান কবীর বাসস’কে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষাপটে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলার লক্ষ্যে ব্রি বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ১১টি লবণ-সহিষ্ণু, দু’টি জলমগ্নতা সহিষ্ণু, তিনটি খরা সহিষ্ণু, একটি খরা পরিহারকারী, দু’টি শীত সহনশীল এবং চারটি জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন।
বিভিন্ন ধরণের বৈরী পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার উপযোগী আরো ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে জানিয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক বলেন, ধানের গুণাগুণ বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন এ এবং আয়রন সমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবনের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ব্রি উদ্ভাবিত সরু ও সুগন্ধযুক্ত বোরো মওসুমের জাত ব্রি ধান৫০ বা বাংলামতি রফতানি সম্ভাবনাময়। সব মিলিয়ে ব্রি এ পর্যন্ত ছয়টি হাইব্রিডসহ ৯৪টি উফশী ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে যার মধ্যে বেশ ক’টি প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল এবং উন্নত পুষ্টি গুণ সম্পন্ন। আর এগুলোর ফলন সনাতন জাতের চেয়ে তিন গুণ বেশি। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কৃষক পর্যায়ে এসব জাত জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

image_printPrint