বাজিস-৩ : বরগুনায় বাসক পাতায় বাড়তি আয়

বাজিস-৩
বরগুনা-বাসক পাতা
বরগুনায় বাসক পাতায় বাড়তি আয়
বরগুনা, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ (বাসস) : জেলার পাাথরঘাটা উপজেলায় দেড়শ পরিবার বাড়তি আয় করছে গ্রামীণ সড়ক ও বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে বাসক গাছ লাগিয়ে। ওষুধি এ গাছের পাতা বিক্রি করে নিয়মিত আয়ের পরে মাসে কয়েক হাজার টাকা করে আয় হচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলোর। দেশের বৃহত্তম বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানী ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য এখান থেকে পাতা কিনে নেয়।
বরগুনার পাথরঘাটা সদর ও বামনা ডৌয়াতলা ইউনিয়নে ২০১২ সালে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম পরীক্ষামুলকভাবে বাসক চাষ প্রকল্প গ্রহণ করে। বর্তমানে এ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় দেড়শ পরিবার রাস্তা ও বাড়ির আশপাশের পতিত জমিতে বাসক গাছ রোপণ করেছে। গাছটি তৃণভোজী প্রাণির আহার্য না হওয়াতে এবং যে কোনো পরিবেশে টিকে থাকে বলে বিশেষ কোনো যতœ ছাড়াই রোপণের তিনমাস পরই ডালপালা ছেড়ে পরিপূর্ণ গাছে পরিণত হয়। এরপর শুরু হয় পাতা তোলার কাজ। চাষিরা জানান, বাসক চাষের জন্য যেমন আলাদা কোনো জায়গার দরকার হয়না তেমনি সার ওষুধ প্রয়োগ বা পাতা তোলা ছাড়া বাড়তি কোনো কানো শ্রমের দরকার হয় না।
স্থানীয় বাসকগাছ চাষি আমেনা বেগম জানিয়েছেন, বাসক পাতার এমন ওষুধি গুনাগুনের কথা জানাও ছিলনা অনেকের, বিক্রির সুযোগ পেয়ে বাড়তি একটি আয়ের উৎস হিসেবেই ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে এখন অনেকেই বাসক গাছ চাষবাস শুরু করেছেন।
দেশের প্রসিদ্ধ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ও একমি স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে প্রতি কেজি বাসক পাতা ৪০ টাকা দরে কিনে নেয় বলে কোম্পানীর প্রতিনিধিরা আলাপকালে জানিয়েছেন।
বরগুনার একজন হারবাল চিকিৎসক হাকীম আ. হাই জানান, কাশি সারাতে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাসক পাতার চিকিৎসা অনেক পুরাতন। উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশের বড়বড় ওষুধ কোম্পানীগুলো কাচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গাছ-গাছরা ব্যবহার শুরু করেছে এটা খুবই ইতিবাচক।
আ. মোমেন, আ. জব্বারসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় কৃষক জানান, এ পাতার বিপুল পরিমান চাহিদা রয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ হাজার কেজিরও বেশী বাসক পাতা তারা বিক্রি করে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। স্কয়ার ও একমি কোম্পানী এখান থেকে ওষুধের বাসক পাতা কিনে নেয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংগ্রাম’র প্রকল্প পরিচালক মো. মানিকুর রহমান জানিয়েছেন, ওষুধ কোম্পানীগুলো সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাতা কিনে নেয়ায় এখানে মধ্যস্বত্তভোগীদের ঢোকার সুযোগ নেই। চাষিরা নীট লাভ পাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক শাহীনূর আজম খান জানান, সরকারের কৃষি বিভাগ মনে করে বাড়ির আশপাশের জমিতে বাসক গাছ রোপণ করে যে কেউ বাড়তি আয় করতে পারে। যদি এভাবে সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তবে তারা বাণিজ্যিকভাবে রোপণের ব্যাপারে কৃষদের উদ্বুদ্ধ করবেন।
বাসস/সংবাদদাতা/কেইউ/১১৫৫/নূসী