জাতীয় স্বর্ণপদক জয়ী কুস্তিগীর শিরিন সফল ব্যবসায়ী

739
image_printPrint

বাসস ইউনিসেফ ফিচার-১
জাতীয় স্বর্ণপদক জয়ী কুস্তিগীর শিরিন সফল ব্যবসায়ী
ঢাকা, ৩০ মে, ২০১৮ (বাসস) : ক্রীড়া এমন একটি ক্ষেত্র যার দ্বারা মানুষ সহজেই পেতে পারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি। একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের খুব বেশি একটা দেখা যেত না। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ পুরুষের সমান তালেই ক্রীড়াঙ্গনে বিচরণ করছে নাররীরা। বর্তমান সরকার অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিয়েছে খেলাধুলাকে। যে কারণে অনেকেই আজ নিজেদেরকে ক্রীড়াবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশের প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়াবিদরা অনেকেই জড়িত আছেন ব্যবসার সঙ্গে। তেমনই একজন শিরিন সুলতানা। যিনি খেলাধুলার পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী। ময়মনসিংহের মেয়ে শিরিন। একজন কুস্তিগীর। পরিবারে আর কেউ নেই রেসলিং অর্থাৎ কুস্তিতে। এমনকি পুরো ময়মনসিংহ বিভাগে তিনি ছাড়া আর কোন মহিলা নেই এই খেলায়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এই লড়াকু মেয়ে বারবার চমক দেখিয়েছেন দেশে-বিদেশে।
২০০৮-০৯ সময়টায় বদলে যায় শিরিনের জীবন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ প্রতিযোগিতা থেকে মাত্র এক মাসের একটি প্রশিক্ষণ পান। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। ২০০৯ সালেই জাতীয় রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতে নেন। এরপর ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা জিতে নিয়েছেন দেশ সেরার পদক।
কেবল রেসলিং নয় অন্য খেলাতেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন শিরিন সুলতানা। ২০১০-২০১৩ চার বার জাতীয় রোইয়িং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। ২০১৫ সালে জাতীয় মহিলা কাবাডিতে স্বর্ণপদক জেতেন। জাতীয় উশু চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্যপদক পান ২০১০ ও ২০১১ সালে। ২০১৪ সালে জিতে নেন স্বর্ণপদক। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ কমনওয়েলথ গেমসে রেসলিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রতিভাবান এ ক্রীড়াবিদ।
দেশের মাটিতে জয়ের পাশাপাশি আছে বিদেশ বিজয়ও। দ্বিতীয় ইন্দো-বাংলাদেশ রেসলিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক পান ২০১২ সালে। ২০১৩ সালে এশিয়ান রেসলিং প্রতিযোগিতায় পান ব্রোঞ্জ । এ ছাড়া এশিয়ান গেমস, এশিয়ান ইনডোর এবং মার্শাল আর্ট গেমস পুরস্কার, ইসলামিক সলিডারিটি গেমসসহ আরও অনেক আসরে পেয়েছেন পদক। প্রেসিডেন্ট আনসার মেডেল, ক্রীড়া লেখক সম্মাননা, হিউমান রাইটস সম্মাননা, মে দিবস সম্মাননাসহ আরও অনেক স্বীকৃতি পেয়েছেন শিরিন সুলতানা।
খেলাধুলার মাঝে ২০১৩ সালে পোলট্রি ব্যবসা শুরু করেন। শিরিন বললেন, ‘বাড়িতে আমাদের বেশ জায়গাজমি খালি ছিল। আমি একদিন ভাবলাম এখানে পোলট্রি ফার্ম করা যায়। শুরু করি ৩ হাজার ৬০০ মুরগি দিয়ে। এখন আছে ৩০ হাজারের বেশি।’ প্রতিদিন নতুন মুরগি জন্মাচ্ছে আর বিক্রিও তো হচ্ছে। মাছ চাষেরও দুটি প্রকল্প আছে শিরিনের। তিনি বলেন, ‘মাছের আরও তিনটি প্রকল্প শুরু হবে কিছুদিনের মধ্যেই। অনেকটা জায়গা নিয়ে দেশি লেবু আর পেঁপে চাষ শুরু করেছি। খুব তাড়াতাড়িই ফলন পাওয়া যাবে।’ তাঁর এই ব্যবসায় প্রকল্পগুলোতে কাজ করছেন প্রায় ২০ জন কর্মী। দুই ভাই ও তিন ভাইবোনের মধ্যে একমাত্র তিনিই এসেছেন রেসলিংয়ে। অন্যরা ব্যবসায়ী।
শিরিন সুলতানা জানান, ২০০৪ সালে তাঁর অগ্রজরা যখন রেসলিং শুরু করে, তখন হয়েছে নানা সমস্যা। কাজে বাধা দেয়ার চেষ্টা থেকে এমনকি স্টেডিয়াম ঘেরাও পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু তাঁরা থেমে থাকেননি। তাই আজ থেমে থাকা চলবে না তাঁরও। প্রথম দিকে পরিবারের মানুষদের কিছুটা আপত্তি থাকলেও তার সফলতার পাশে ছিলেন সবাই।
শিরিনের মতে ইচ্ছে থাকলে বাংলাদেশের নারীরা সহজেই ব্যবসার মাধ্যমে উদ্যক্তা হতে পারে। রাখতে পারে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান।
বাসস- ইউনিসেফ ফিচার /স্বব/০৯৩০/আহো/-ওজি