পোল্যান্ডে বন্যশুয়োর হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

72

ওয়ারশ, ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ (বাসস ডেস্ক) : পোল্যান্ডে বন্য শুয়োর নিধনের প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার ওয়ারশতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। তারা এই নিধন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে তারা বন্য শুয়োর নিধন করছে।
এদিকে এ নিধনের ফলে শুয়োরের মাংস নির্ভর শিল্প ঝুঁকির মুখে পড়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এছাড়া, পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে বন্য শুয়োর নিধনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এমনকি এর ফলে অসাবধানবসত আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার (এএসএফ) ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা শুয়োরের জন্য প্রাণঘাতী।
রোগটি ২০১৪ সালে প্রথম পোল্যান্ডে দেখা যায়। বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডে আসা রোগাক্রান্ত একটি বন্য শুয়োর থেকে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পোল্যান্ডের পিজেডএল হান্টিং ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার বন্য শুয়োর হত্যা করেছে। ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১ লাখ ৮৫ হাজার বন্যা শুয়োর হত্যার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখন পরিবেশ মন্ত্রণালয় পিজেডএলকে জানুয়ারির শেষ তিন সপ্তাহে গণহারে শুয়োর নিধনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা পোল্যান্ডের পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশ করেছে। এ সময় তাদের হাতে, ‘বন্য শুয়োর নিধন চলছে!’, ‘বন্য শুয়োর দীর্ঘজীবী হোক!’ ও ‘মন্ত্রীদের গুলি করা উচিত!’ লেখা প্যাকার্ড ছিল।
আগামী দিনগুলোতে পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে আরো বেশি বিক্ষোভকারীর জমায়েত হওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে পোল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা অবিলম্বে এই বন্য শুয়োর নিধন বন্ধে দেশটির ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী মাতেউসজ মোরাউইকির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএল) পোল্যান্ড শাখার এর বায়োডাইভার্সিটি বিশেষজ্ঞ পিওত্র শিয়েইলেওস্কি বলেন, ‘বন্য শুয়োর জীববৈচিত্র্যের জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় খায় এবং নেকড়েবাঘের প্রধান খাদ্য।’
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, জীববৈচিত্র্য থেকে বন্য শুয়োর হারিয়ে গেলে নেকড়েরা হরিণ শিকার শুরু করতে পারে। এমনকি তারা গবাদিপশুর উপরও হামলা চালাতে পারে।

image_printPrint