প্রতিদ্বন্দ্বীদের ইনজুরির সুযোগে ফেদেরারের সামনে আরেকটি ‘রূপকথার’ স্বপ্ন

59
image_printPrint

মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি ২০১৮ (বাসস) : ক্যারিয়ারে ২০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নে বিভোর সুইস তারকা রজার ফেদেরার আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই কোর্টে নামতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের ইনজুরির সুযোগে ফেদেরার আরেকটি ‘রূপকথা’ রচনার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।
২০১৭ সালে অসাধারন একটি বছর কাটানোর পরে ৩৬ বছর বয়সী ফেদেরার যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন। পঞ্চম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও রেকর্ড অষ্টম উইম্বলডনের শিরোপা হাতে নিয়ে তিনি প্রমান করেছেন টেনিসের মত অত্যন্ত পরিশ্রমী একটি খেলায় বয়স কোন ব্যাপরই না। আগামী সপ্তাহ থেকে মেলবোর্নে শুরু হওয়া বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে তাই আরেকটি কৃতিত্বের পালক নিজের বর্নাঢ্য মুকুটে যোগ করতে সুইস এই তারকা নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে তুলেছেন।
ইতোমধ্যেই ইনজুরির কারনে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এন্ডি মারে ও জাপানের কেই নিশিকোরি। অন্যদিকে ১২বারের স্ল্যাম জয়ী আরেক শীর্ষ তারকা নোভাক জকোভিচ কনুইয়ের ইনজুরিতে ভুগছেন, গত ছয় মাস যাবত তিনি কোর্টের বাইরে রয়েছেন। বিশ্বের এক নম্বর তারকা রাফায়েল নাদাল ২০১৮ সালের প্রথম টুর্নামেন্ট ব্রিসবেন থেকে হাঁটুর সমস্যার কারনে নাম প্রত্যাহার করেছেন। আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগে মেলবোর্নে প্রীতি ম্যাচ খেলে নিজেকে ঝালাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন নাদাল। ২০১৪ সালে বিজয়ী স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারনে গত বছরের উইম্বলডনের সময় থেকে বিশ্রামে রয়েছেন। যদিও মেলবোর্নে খেলার জন্য তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন।
এসব কিছুই ফেদেরারকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ইনজুরি মুক্ত হয়ে তিনি পার্থে চলতি সপ্তাহে হপম্যান কাপে সবগুলো ম্যাচই জিতেছেন। সুইজারল্যান্ডের সতীর্থ বেলিন্ডা বেনচিচকে নিয়ে হপম্যান কাপে শেষ জয়টি তুলে নেবার পরে ফেদেরার বলেছেন, ‘আমি শুধুমাত্র মেলবোর্নে সুস্থ থেকে সবগুলো ম্যাচে খেলতে চাই। এবং এজন্য আমি প্রস্তুত। গত বছর দুর্দান্ত এক টুর্নামেন্ট কাটানোর পরে আবারো মেলবোর্নে ফিরে আসতে পেরে আমি দারুন আনন্দিত। এটা সত্যিই অন্যরকম এক অনুভূতি ছিল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোর্টে নামাটা সবসময়ই বিশেষ কিছু। আমি সঠিকভাবেই একে গ্রহণ করেছি। নিজের উপর অতিরিক্ত কোন চাপ নিচ্ছিনা, প্রতিপক্ষ যেই হোকনা কেন আমি স্বাভাবিক খেলা খেলতে চাই। আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিজেকে মানসিক ভাবে শক্ত রেখে এগিয়ে যাওয়া। আমার বিশ্বাস এজন্য আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।’
গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ফাইনালে পাঁচ সেটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ফেদেরারের কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন নাদাল। কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য নাদাল জকোভিচের সাথে কুইয়ং ক্ল্যাসিকের প্রীতি টুর্নামেন্টে কোর্টে নামতে যাচ্ছেন। নভেম্বরে লন্ডনের ওয়ার্ল্ড ট্যুও ফাইনালের পরে আর কোন ম্যাচে খেলেননি নাদাল। যদিও ফেদেরারের মতই গত বছরটা তারও দুর্দান্ত কেটেছে। ক্যারিয়ারের ১০ম ফ্রেঞ্চ ওপেনের পাশাপাশি তৃতীয়বারের মত জিতেছেন ইউএস ওপেনের শিরোপা। একইসাথে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকে বছর শেষ করেছেন।
ছয়বারের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনর বিজয়ী জকোভিচ আবু ধাবী ও দোহায় সম্প্রতী অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্ট গুলোতে কনুইয়ের সমস্যার কারনে খেলেননি। জুলাইয়ে উইম্বলডনের কোয়ার্টার ফাইনালে সমস্যা দেখা দেবার পরে এ পর্যন্ত বিশ্রামে রয়েছেন সাবেক এই নাম্বার ওয়ান সার্বিয়ান।
বড় সার্ভিসের জন্য পরিচিত কানাডিয়ান মিলোস রাওনিক গত বছর থেকে কব্জির ইনজুরিতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আট নম্বর খেলোয়াড় জ্যাক সক হপম্যান কাপে খেলার আগে কোমরের ইনজুরিতে ভুগছিলেন।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইনজুরির তালিকাটা বেশ দীর্ঘ হয়েছে। এর আগে ইউএস ওপেন থেকে ইনজুরির কারনে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ওয়ারিঙ্কা, জকোভিচ, নিশিকোরি, রাওনিক ও মারে। এছাড়া আলেক্সান্দার জেভরেভ, মারিন সিলিচ, গ্রিগর দিমিত্রভ ও জো-উইলফ্রিড টিসোঙ্গা একটু আগেভাগেই বিদায় নেয়ায় গ্র্যান্ড স্ল্যামের ঐতিহ্যের বাইরে গিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে তেমন কোন বড় তারকা ছিলেননা। মেলবোর্নেও তেমন কিছুরই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বড় নামগুলোর বাইরে অস্ট্রেলিয়ান নিক কিরগিওসকে নিয়ে স্বাগতিকরা দারুন আশাবাদী। এছাড়া নাদাল ও ফেদেরারের পরে র‌্যাঙ্কিংয়ের তৃতীয় স্থানে থাকা বুলগেরিয়ান দিমিত্রভ ২০১৭ সালে চারটি শিরোপা জয় করেছিলেন যার মধ্যে ছিল ক্যারিয়ারের প্রথম মাস্টার্স ক্রাউন সিনসিনাতি।