দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা শেখ হাসিনাকে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী দেখতে চায়

483

ঢাকা, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : দলমত নির্বিশেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাগণ প্রধানমন্ত্রীকে ‘আশার প্রতীক’ আখ্যায়িত করে পুনরায় তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছেন।
আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসায়ী সম্মেলন-২০১৮’তে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি তুলে ধরে ব্যবসায়ী নেতারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রতি তাদের এই সমর্থন জানান।
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় সব সময় তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির প্রতি শেখ হাসিনার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সমর্থন করে ব্যবসায়ীগণ প্রত্যাশাও ব্যক্ত বলেন, আগামী নির্বাচন হবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শান্তি সমৃদ্ধির দেশ গড়ার মাইলফলক।
দেশের শীর্ষ শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ, সিইও, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমদানী-রপ্তানী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তথ্য প্রযুক্তি এবং বিদ্যু ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সেবাখাতের সাথে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংগঠনের কর্তাব্যক্তিগণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা চাই দেশের চলমান উন্নয়নের গতিধারা এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিদ্যমান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ দেশে বজায় থাকুক।’
তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এমন নেতৃত্ব চায় যে কিনা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, সাহসী এবং যার দুয়ার সবসময় ব্যবসায়ীদের জন্য অবারিত থাকবে। শেখ হাসিনা এমনই একজন ব্যক্তিত্ব তিনি যে কোন সমস্যায় ব্যবসায়ীদের শেষ ভরসাস্থল।
মহিউদ্দিন বলেন, আমার সামনে যারা বসে আছেন। আপনারাই বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারেন। আর এর দিক নির্দেশনা দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে রাজনীতিতে কোন জ্বালাও পোড়াও নৈরাজ্য দেখতে চাই না।
আওয়ামী লীগে সভাপতি শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, শেখ হাসিনার সরকার দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁর দরজা দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সব সময় খোলা থাকে। ব্যবসায়ীরা যে কোন প্রয়োজনেই তাঁকে কাছে পেয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, কেউ বলতে পারবেন না, এই সরকারের সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন বা হাওয়া ভবনের মত চাঁদা গুণতে হয়েছে।
এরপর একে একে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বক্তব্যে ফুটে উঠে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনিসুর রহমান সিনহা, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, এ কে আজাদ, আতিকুল ইসলাম, টিপু মুন্সি, প্রকৌশলি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, রুবানা হক, আহমেদ আকবর সোবহান, সাইফুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আবদুল মুক্তাদির, মাইকেল পলি, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে গত ১০ বছরে দেশের বিভন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবার সহযোগিতা চান।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতের বিকাশে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরে বলেন, আমি ব্যবসা বুঝি না এবং ব্যবসা করিও না। কিন্তু আপনাদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমরা বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সুযোগ সৃষ্টি করেছি।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাত যে এদেশে বিকশিত হবে সে লক্ষে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রণীত সংবিধানেই নীতিমালা সন্নিবেশিত করা হয়।
শেখ হাসিনা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পাকিস্তান আমলে ব্যবসায়ী বলতে ছিল দু-চারজন। এখন আমাদের ঘর ভরা, দেশ ভরা ব্যবসায়ী। দেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই আজ আপনারা বড় বড় ব্যবসায়ী হতে পেরেছেন।
‘বিবিআইএন’ এবং ‘বিসিআইএম-ইসি’ কানেকটিভির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে একটা যোগাযোগ ও সদ্ভাব সৃষ্টি, সেটাও আমরা করতে পেরেছি।
বা¯ুÍচ্যূত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে মানবিক কারণেই তাদের আশ্রয় প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। আমরা কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়া করতে যাইনি বরং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এটা সমাধানের প্রচেষ্টা নিয়েছি এবং এ ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারকও আমরা স্বাক্ষর করেছি।
এসময় মিয়ানমার এবং ভারতের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতের মীমাংসার মাধ্যমে সমুদ্র সীমা অর্জন, ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির আলোকে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গায় এতটুকু সমস্যা ছিল সেটা যেমন আমরা সমাধান করেছি সেইসঙ্গে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান সেটাও আমরা অব্যাহত রাখবো’।
‘যাতে আমাদের সমাজে শান্তি ফিরে আসে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস থাকলে কোনদেশ উন্নতি করতে পারে না। কাজেই আমরা চাই দেশে একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থান থাকুক’, বলেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এসময় শেখ হাসিনা নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাঁর সরকারের সংলাপের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন, আমি অনেক কিছু সহ্য করেও সকলের সাথে বসে কথা বলেছি। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের সাথে আমি ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা করে সবাইকে বলেছি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে।
যেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসতে চায় না আওয়ামী লীগ, একথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হবে, আমরা চাই নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ হোক।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের কাছে একটা সহযোগিতা চাই, আজকে যে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে এবং অনেকগুলি দল আজকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, নির্বাচনের সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশটা যেন বজায় থাকে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে জনগণ ভোট দেবে, যাকে দেবে তারাই ক্ষমতায় আসবে, আমার এমন কোন আকাঙ্খা নেই যে, যেনতেন ভাবেই ক্ষমতায় আসতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যদি ক্ষমতায় আসতে পারি আলহামদুলিল্লাহ। যদি না পারি কোন অসুবিধা নাই।’
‘কিন্তু দেশে শান্তি বজায় থাকুক, দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিক, ভোট দিয়ে তাঁরা তাঁদের সরকার পছন্দ করে নিক, সেই পরিবেশটা বজায় থাকুক-আমি সেটাই চাই। কারণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেই দেশটা এগিয়ে যাবে,’ যোগ করেন তিনি।
এসময় বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকগুলো কাজ আমরা হাতে নিয়েছি, কোনদিক আমরা বাদ রাখিনি সবদিকেই উন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি। এইসব মেগা প্রজেক্ট যেমন- পদ্মা সেতু নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল থেকে শুরু করে আর্থসমাজিক উন্নয়নের জন্য একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করাসহ দারিদ্র বিমোচনের বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা নিয়েছি। সেগুলো যেন বাস্তবায়ন করতে পারি। একইসাথে আপনাদের জন্য যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আমরা সৃষ্টি করেছি তা যেন বজায় থাকে।
তিনি বলেন, অন্তত কেউ এটা বলতে পারবেন না যে, হাওয়া ভবন খুলে ‘থাবাথাবি’ করছে, কোন কাজ করতে গেলেই ভাগ দিতে হবে। আমরা সেটা করি না, করবো না, সেটা আমাদের প্রতিজ্ঞা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দেশব্যাপী একশটি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খুব পরিকল্পিতভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। কাজেই এগুলোকে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, সেজন্য অবশ্যই আপনাদের কাছেও সহযোগিতা চাইব।’
যারা ইতোমধ্যে নৌকার প্রতি সমর্থন দিয়েছেন তাঁদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি এই টুকুই বলবো- ৩০ ডিসেম্বর নৌকা মার্কায় ভোট চাই। যেন উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে পারি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ন জয়ন্তী উদযাপনের সময় স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো সেই সুযোগটা আমি ব্যবসায়ী মহলসহ সমগ্র দেশবাসীর কাছে চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার আরেকবার সুযোগ দিন। আমার উন্নয়নের কাজগুলো যেন আমি সম্পন্ন করতে পারি।’
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গ্রাজুয়েশন প্রাপ্তির উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে বিদেশের যেথানেই যান সেখানে বাংলাদেশের মানুষ হিসেবে যে সম্মানটা পাচ্ছেন সেটা যেন অব্যাহত থাকে, সেটাই আমি চাই।

image_printPrint