লক্ষ্মীপুরে ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার সোলার স্থাপন

62
image_printPrint

লক্ষ্মীপুর, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : জেলার সদর উপজেলায় এক বছরে ৫৫০ টি প্রকল্পের মাধ্যমে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ১১১ টাকা মূল্যের এ সোলার প্যানেল স্থাপন করা করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখন সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৫৫০ টি প্রকল্পের মাধ্যমে সোলার স্থাপন করা হয়। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি এ কে এম শাহজাহান কামাল ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসেনের এমপি মোহাম্মদ নোমান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের আওতায় সোলারগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে এসব প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে।
স্থানীয়রা জানান, লক্ষ্মীপুর সদরের ২১ টি ইউনিয়নের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন আলো আর বৈদ্যুতিক সুবিধা পেতে বিকল্প উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে সৌর বিদ্যুৎ। এটি সদর উপজেলায় অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চাহিদা পূরণ করছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র যায়, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার ও গুরুত্ব বৃদ্ধিতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, চন্দ্রগঞ্জ, চরশাহী, জকসিন, দালালবাজার ও দত্তপাড়া ইউনিয়ন, ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, জকসিন, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ, উপজেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসক কার্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব সোলার প্যানেল ও স্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হয়। এর সুফল পেয়ে খুশি সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া গরমের সময়ে বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো বৃদ্ধ-শিশুরা ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার উপকৃত হচ্ছেন। গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। বিদ্যুতের চাহিদার ওপর চাপ কমাচ্ছে সৌর বিদ্যুৎ।
কয়েকজন সুফলভোগী জানায়, লোডশেডিংয়ের কারণে আগে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া বিঘœ ঘটতো। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হতো। বিদ্যুতের সমস্যায় অপচয় হতো কর্মঘন্টা। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ তাদেরকে স্বস্তি দিয়েছে।
উপজেলার প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৪ লাখ টাকার প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানে সোলার স্থাপন করে দেওয়া হয়। এখন বিদ্যালয়ের ২৬ টি কক্ষে সোলার লাইট দিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যুত না থাকলে কম্পিউটার, পাখা ও যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. মিজানুর রহমান মিলু জানান, লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে চন্দ্রগঞ্জ থেকে জকসিন বাজার পর্যন্ত ৩৫ টি স্ট্রীট সোলার লাইট স্থাপন করা হয়েছে। আগে সন্ধ্যার পর ভুতুড়ে পরিবেশ ছিল। বর্তমানে যান চলাচল ও পথচারীদের নিরাপদে যাতায়াত করতে এটি সহায়ক হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ২জন সংসদ সদস্যের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ১১১ টাকার সোলার প্যানেল স্থাপন করা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। বিপুল জনগোষ্ঠী এর সুফল পাচ্ছে।