বাসস দেশ-১৯ : সবার অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের

বাসস দেশ-১৯
কাদের-নির্বাচন
সবার অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ : ওবায়দুল কাদের
ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তার দল চায় সবার অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন।
বিএনপি গত নির্বাচনের মতো ভূয়া অভিযোগ এনে আগামী জাতীয় নির্বাচন বর্জন করুক তা আওয়ামী লীগ চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আগামী জাতীয় নির্বাচন সকলের অংশগ্রহণে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হোক এবং সেখানে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক। গতবারের মতো ভুয়া অভিযোগ এনে তারা নির্বাচন বয়কট করুক, এটা চাই না।’
আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে ৩০ আসনও পাবে না- বিএনপির নেতাদের এমন দাবির জবাবে তিনি বলেন, এই সংখ্যাতত্ত্বটা বিএনপি’ই বলে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বলেছিল তারা আমাদেরকে ৩০টি আসন দেবে, এরকম ঘোষণা বারবার দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে দেখা গেল আমরা যেখানে দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেলাম সেখানে বিএনপি মাত্র ২৯টি আসনে জয়লাভ করতে পেরেছে। এরকম কথা বিএনপিই বলে।
তিনি বলেন, কেউ বলে ১০০ সীট, কেউ বলে ৩০ সীট। কেউ বলে ১শ’ বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বেগম জিয়া কি ঔদ্বত্যপূর্ণ বক্তব্য দেননি? দম্ভ আর অহংকারের যে করুণ পরিণতি হয়- বিএনপি আজ সেই দেউলিয়াপনায় এসে ঠেকেছে।
ওবায়দুল কাদের আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
বিএনপি নেতাদের গণহারে গ্রেফতার করে সরকার নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, যাদের পল্টনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে, তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করলে তা কোন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়- এটা কেন ভাবেন? সন্ত্রাসীকে কি গ্রেফতার করা যাবে না?
কাদের বলেন, বিএনপি যখন যা খুশি তাই বলছে। আসলে তারা হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন বানচালের বিভিন্নমুখী অজুহাত তুলছে। আমরা এটাকে তারই অংশ মনে করি।
ক্ষমতাসীনরা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির উসকানি দিচ্ছে- বিএনপির নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে কাদের বলেন, ‘এ পর্যন্ত কোথাও কোন সংঘাত হয়েছে? কোথায় আমরা আচরণবিধি লংঘন করেছি? হাওয়ায় একটি কথা ছেড়ে দিলেই হবে না? আমি বিএনপিকে বলবো তারা তথ্য প্রমাণসহ কথা বলুক।’
তিনি বলেন, এতো বড় একটা নির্বাচন। ২৮ তারিখে ঢাকা সিটিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অনেকেই। একটা সিঙ্গেল ইনসিডেন্ট কি কোথাও ঘটেছে?।
কাদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা পরিবেশটা ভাল দেখে বলছে, তারা এখানে আর পর্যবেক্ষক পাঠানোর কোন প্রয়োজন বোধ করছে না। বিএনপিই শুধু আজকে নির্বাচনের পরিবেশ দেখতে পাচ্ছে না। অথচ পরিবেশটা নষ্ট করার সূচনা তাদের হাত দিয়েই শুরু হয়েছে।
বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা সেটা মনে করি না। আমরা চাই নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক। বিএনপি একটি বড় দল। একটা বড় দল নির্বাচন থেকে সরে যায়, আমরা সেটা চাই না।
মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদেরকে (বিএনপিকে) নির্বাচনে দেখতে চাই। আমরাও চাই একটা ইনক্লুসিভ, পার্টিসিপেটরি, ক্রেডিবল, একসেপ্টেবল, ফ্রি, ফেয়ার এন্ড নিউট্রাল নির্বাচন। সেখানে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক এবং গত নির্বাচনের মতো ভুয়া অভিযোগ দিয়ে নির্বাচন বয়কট করুক, এটা আমরা চাই না।
জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, আমাদের নির্বাচন পরিচালনার ১৫ টি উপ-কমিটি আছে। প্রত্যেকটি উপ-কমিটি কাজ করছে। তাদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের সবাই এখানে এসেছেন। আমরা মূলতঃ আমাদের কাজের কার কি অগ্রগতি হলো এবং কো-অর্ডিনেশনটা যাতে ভালভাবে হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করার পর আমাদের সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করেছি।
তিনি বলেন, তিনি (কাদের) আমাদের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব, তারও বিশেষ দায়িত্ব আছে। আমরা নিজেদের মধ্যে মোটামুটি আলোচনা করে নিয়েছি। এছাড়াও আমাদের আরও কিছু আলোচনার আছে।
এর আগে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের বৈঠক হয়।
এতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দিপু মণি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ এবং সাবের হোসেন চৌধুরী এমপিসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাসস/এএসজি/এমএএস/২২১০/-জেহক