নতুন অপরাধ মোকাবেলায় বিচারকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

194

ঢাকা, ২৫ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : নতুন অপরাধ মোকাবেলায় বিচারকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক প্রত্যেক জেলা জজকে মামলা জটের পাহাড় কমানোর উপায় রেব করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এখন অনেক অপরাধ হচ্ছে যেটা সম্বন্ধে আগে আমরা জানতাম না। ১৫ বছর আগে মানিলন্ডারিং কি সেটা সমন্ধে জানতাম না। এখন অনেক অপরাধ হচ্ছে যেগুলো ট্রান্সবর্ডার।’
এসব অপরাধ শুধু বাংলাদেশকে প্রভাবিত করেনা এগুলো হতে গেলে অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বরেন, ‘এই সব নতুন অপরাধ মোকাবিলা করার জন্য বিচারকদের প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।’
আনিসুল হক আজ ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের জন্য আয়োজিত ২৪ তম বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ব্যাপারে কোন আপস করবে না উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, একটা দেশের তখনই উন্নয়ন হয় যখন সেখানে আইনের শাসন থাকে, বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকে এবং জনগণের বিশ^াস থাকে যে আদালতে গেলে তারা ন্যায়বিচার পাবে।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান দিয়ে গেছেন সেই সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২ ও অনুচ্ছেদ ৯৪(৪) এ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হলে দেশের বিচার বিভাগ অনেক আগেই স্বাধীন হয়ে যেত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর দেশে একটি বিচারহীনতার সংস্কৃতির ছায়া পড়েছিল।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক বলেন, যারা অগ্নি সন্ত্রাস করে, জঙ্গিবাদ করে তারা যেন আইনের আশ্রয়ে বেআইনিভাবে কোন সুবিধা না পায় সেটা আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিমাসে অন্তত একবার বিচারিক সমস্যা নিয়ে সভা করার জন্য জেলা জজদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আইন সচিব বলেন, এটা করা গেলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে এবং মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়বে।

image_printPrint