বাসস ক্রীড়া-১৮ : বসুন্ধরাকে হারিয়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী

বাসস ক্রীড়া-১৮
ফুটবল-ফেডারেশন কাপ-আবাহনী
বসুন্ধরাকে হারিয়ে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী
ঢাকা, ২৩ নভেম্বর ২০১৮ (বাসস) : নবাগত বসুন্ধরা কিংসকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মত ফেডারেশন কাপের শিরোপা জয় করেছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টান টান উত্তেজনার ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পরও ৩-১ গোলে জয় নিয়ে হ্যাট্রিক শিরোপা লাভ করে ধানমন্ডির ক্লাবটি। ম্যাচে উত্তেজনার পারদ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে শেষ দিকে মারামারিতে লিপ্ত হয়ে এক সঙ্গে চারটি লাল কার্ড দেখেছে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব দুটির খেলোয়াড়রা।
ম্যাচের ২০ তম মিনিটেই বসুন্ধরা এগিয়ে যায় অধিনায়ক কলিন্ড্রেসের গোলে। আলমগীর কবির রানার শট আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম প্রথমে ফিষ্ট করেন। ছোট বক্সের সামনে দাঁড়ানো বসুন্ধরার অধিনায়ক কলিন্ড্রেসের পায়ের সামনেই পড়ে বলটি। ডান পা থেকে বল বাঁ-পায়ে নিয়ে প্লেসিং শটে আবাহনীর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোল আদায় করে নেন বিশ^কাপ খেলা এ কোস্টারিকার ফরোয়ার্ড (১-০)। ফেডকাপে এটা তার পঞ্চম গোল।
এরপরই ম্যাচে ফিরে আসতে একের পর এক চেষ্টা চালায় আবাহনী। ২৫ মিনিটেই গোল পরিশোধের মোক্ষম একটা সুযোগ ছিল আবাহানীর সামনে। ডানদিক থেকে ওয়ালী ফয়সালের নেয়া ফ্রি কিকে দারুন হেড করেছিলেন বেলফোর্ট। কিন্তু বল গোল লাইন অতিক্রম করার আগেই বসুন্ধরার গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকু কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
৩৫ মিনিটে আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড সানডে সিজুবা বক্সের ভেতরে বল পেয়েও নিশানা ভেদ করতে পারেননি। বসুন্ধরার রক্ষণ দেয়ালে চিড় ধরাতে না পেরে লক্ষ্যহীন শট নেন।
গোল পরিশোধে মরিয়া আবাহনী দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই আবারো হতাশ হয়। এবার তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসপিচ। ডি বক্সের ভেতর থেকে সানডে সিজুবার নেয়া জোড়ালো শট গোলরক্ষক জিকু মিস করলেও ক্রসপিচে লেগে বাইরে চলে যায়। তবে পাঁচ মিনিট পওে সানডের গোলেই ম্যাচে ফিরে আসে আকাশী-নীল শিবির। দুইবার মিস করলেও তৃতীয় সুযোগটা ঠিকই কাজে লাগিয়ে সমর্থকদের উল্লাসে মাতিয়েছেন এ নাইজেরিয়ান। রায়হানের লম্বা থ্রু থেকে বল বক্সে পড়া মাত্রই ডান পায়ের বাঁকানো প্লেসিং শটে গোলরক্ষক জিকুকে বোকা বানিয়ে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনেন তিনি (১-১)।
সমতা ফিরে আসায় নিজেদের আক্রমন জোড়ালো করার লক্ষ্যে আলমগীর কবীর রানাকে তুলে নিয়ে মতিন মিয়াকে মাঠে নামান বসুন্ধরার কোচ অস্কার ব্রুজন। কোচের টোটকা কাজে লাগলেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা।
৭৯ মিনিটে আবারো সানডে ম্যাজিক। এবার গোলের পেছনের কারিগর সোহেল রানা। মাঝ মাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে যান এ মিডফিল্ডার। বসুন্ধরার চার ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান দিকে থাকা সানডের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে দেন। এ নাইজেরিয়ান বল পেয়ে এক মুহূর্তও দেরী করেননি। ডান পায়ের দারুন প্লেসিংয়ে কয়েক হাজার সমর্থককে উৎসবে মাতিয়ে তুলেন (২-১)। ফেডকাপে এটা তার ৬ষ্ঠ গোল। ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটিও সংহত করেন সানডে।
দুই মিনিট পরেই আরেক বিদেশী ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট ঝলকে মাঠ কাঁপায় আবাহনী। ওয়ালী ফয়সালের কর্ণারে মাথা ছুঁইয়ে নিশানা ভেদ করেন হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড বেলফোর্ট (৩-১)।
বাসস/এএসজি/এমএইচসি/১৯৪০/স্বব