মেলায় কর আহরণে নতুন ইতিহাস

396

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : আয়কর মেলায় কর আহরণে গত ৭ দিনে ২ হাজার ৪৬৮কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৯৫ টাকার রেকর্ড পরিমাণ আয় করে নতুন ইতিহাস করেছে।
আজ এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয় গত ৭ দিনে এই রেকর্ড পরিমাণ আয়কর সংগৃহীত হয়েছে। গত ১৩-১৯ নভেম্বর রাজধানী ঢাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরের ৭ দিন, ৫৬টি জেলা শহরে ৪ দিন, ৩২টি উপজেলায় ২ দিন ও ৭০টি উপজেলায় ১ দিনব্যাপী এই আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। করদাতাদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী করসেবা প্রদানের মাধ্যমে শেষ হল সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা-২০১৮।
ঢাকার বেইলী রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবসহ সারাদেশে ৪৫টি স্পটে এ আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলার শেষদিন ছিল করদাতা-সেবা গ্রহীতাদের উপচেপড়া ভিড়। মেলা শেষ হলেও ২২ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সকল কর অফিসে মেলার পরিবেশের মতই সকল কর সেবা প্রদান করা হবে এবং করদাতারা রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সৃজনশীল, উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগ ও করদাতা-সেবার উজ্জ্বলতম নিদর্শন হল আয়কর মেলা। আয়করের মতো কঠিন বিষয়কে নিয়ে মেলার আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কেবল চমক সৃষ্টিই করে নি, বরং জনসেবার ক্ষেত্রে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে। ২০১০ সাল থেকে শুরু হওয়া আয়কর মেলার পরিধি এবং মেলার মাধ্যমে আয়কর বিভাগের সেবার পরিসর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর আহরণের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায় বিচার ও সমতা নিশ্চিত করাই কর বিভাগের প্রধান কাজ। এ ধারাবাহিকতায় ‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’- স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’।
আয়কর মেলা ২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়ির সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়কর মেলা ২০১৮ এর সমন্বয়ক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় জীবনের সকল পর্যায়ে একটি করবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য ২০১০ সাল থেকে আয়কর মেলা চালু করেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের সুফল বাংলাদেশের মানুষ এখন পাচ্ছেন। আয়কর মেলা যার উজ্জ¦ল প্রমাণ। কর দেওয়া এখন কোন ভীতি কিংবা হয়রানির বিষয় নয়। এটি এখন আনন্দের ও গর্বের বিষয়।

image_printPrint