শাহরিয়ার শহীদের দাফন সম্পন্ন

331

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহরিয়ার শহীদের দাফন আজ মরহুমের নিজ গ্রাম নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার ডৌকার চরের পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং মরহুমের প্রিয় কর্মস্থল জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে মরদেহ আনা হলে তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারি, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং গুণগ্রাহীরা মরহুমের কফিনে ফুল দিয়ে তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে শাহরিয়ার শহীদের মরদেহবাহী যান নরসিংদীর রায়পুরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। সেখানে আরেক দফা নামাজে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
শাহরিয়ার শহীদ গত ১৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ নভেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং করনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি ডিআরইউ’র প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য ছিলেন।
এরপর শাহরিয়ার শহীদের মরদেহ বেলা সোয়া ১২টায় তার প্রিয় কর্মস্থল জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর পুরানা পল্টনস্থ কার্যালয়ে শেষ বারের মত আনা হলে এখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এসময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সংস্থার সদ্য প্রয়াত ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে শাহরিয়ার শহীদের স্মৃতিচারণ করেন বাসস-এর প্রধান বার্তা সম্পাদক আনিসুর রহমান, উপ-প্রধান বার্তা সম্পাদক ওমর ফারুক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন বাসস ইউনিট চিফ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ, বিশেষ প্রতিবেদক মধুসূদন মন্ডল প্রমুখ। মরহুমের একমাত্র পুত্র সাদমান শহীদ এসময় পিতার জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন বাসস ইউনিটের পক্ষ থেকে ইউনিট চিফ সাজ্জাদ হোসেন সবুজ ও ডেপুটি ইউনিট চিফ তানভির আলাদীন, বাসস এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ ও সেক্রেটারি মাহবুবুজ্জামানের নেতৃত্বে শাহরিয়ার শহীদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বাসসে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ বেলা ১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেয়া হয়। এখানে বাদ জোহর মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন।


জানাজায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ,বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, বাসস-এর সাবেক প্রধান সম্পাদক গাজীউল হাসান খান ও আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার সাহা, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব ওমর ফারুক ও আবদুল জলিল ভূইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ শরীক হন।
এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিনসহ জানাজায় উপস্থিত অনেকেই মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত বন্ধুবৎসল শাহরিয়ার শহীদ আমৃত্যু নীতি-নৈতিকতা মেনে সাংবাদিকতা করেছেন। পেশাদার সাংবাদিকতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, তার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ শাহরিয়ার শহীদ দেখা হলেই হৃদয় ছোঁয়া হাসি দিতেন। অসাধারণ ভাল মানুষ ছিলেন শাহরিয়ার। বহুদিন তার স্মৃতি বয়ে নিয়ে বেড়াবেন বলে জানান তিনি।
বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মনে-প্রাণে শাহরিয়ার শহীদ একজন সাংবাদিক ছিলেন। সাংবাদিকতার উন্নয়নে তিনি অনেক কাজ করেছেন। তিনি অঞ্চলভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকার ভিত্তিক ৩০ টিরও বেশী গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন পেশাদার সাংবাদিককে হারালাম।
ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক, বলেন, শাহরিয়ার শহীদ ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি কিভাবে ধরে রাখা যায় সেজন্য তিনি অনেক কাজ করছেন।
নামাজে জানাজা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব, বিএফইউজে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ে শাহরিয়ার শহীদের সহপাঠি বন্ধুরা, ডিইউজে, বাসস ডিইউজে ইউনিট, ঢাকাস্থ নরসিংদী জেলা সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়াতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাজায় সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি এম শফিকুল করিম সাবু ও সাখাওয়াত হোসেন বাদশাসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য শরীক হন। এখানে জানাজার আগে শাহরিয়ার শহীদের সহপাঠি এবং সাবেক সহকর্মী সাংবাদিক অজিত কুমার সরকার প্রয়াতের স্মৃতিচারণা করেন।
শাহরিয়ার শহীদ খ্যাতিমান সাংবাদিক ও অধুনালুপ্ত ইংরেজি দৈনিক বাংলাদেশ টাইমসের সম্পাদক মরহুম একেএম শহীদুল হকের ছেলে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহি কমিটির সদস্য শাহরিয়ার শহীদ বহুবিধ প্রতিভার অধিকারি ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বেশ ক’টি প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন।
কর্মজীবনেও রিপোর্টার হিসেবে শাহরিয়ার শহীদ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিটসহ বিভিন্ন বিটে কাজ করেছেন। একসময় তিনি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের স্ট্রিংগার ছিলেন। তিনি অঞ্চলভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকার ভিত্তিক ৩০ টিরও বেশী গ্রন্থ রচনা করেছেন।
শাহরিয়ার শহীদ আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবতাবাদ এবং সুফিবাদের একনিষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন।

image_printPrint