যৌক্তিকভাবেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে : শ্রম প্রতিমন্ত্রী

193

ঢাকা, ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণ তৈরি পোশাক শিল্পকে বাঁচিতে রাখার স্বার্থে যৌক্তিকভাবেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে এ মজুরি কার্যকর হবে। তিনি এ বিষয়ে শ্রমিকদের কারো উস্কানিতে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ রাজধানীর বিজিএমইএ মিলনায়তনে তৈরি পোশাক শিল্প খাতে কর্মরত অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসা সহায়তা এবং শ্রমিকের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ৭৭ জন অসুস্থ গার্মেন্টস শ্রমিককে ২৬ লাখ ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা এবং ৫৭ জন শ্রমিকের মেধাবী সন্তানকে ১৫ লাখ ৫ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান, মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় তহবিলের মহাপিরচালক ড. আনিসুল আউয়াল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে আর কোন শ্রমিক অসহায় থাকবে না। গার্মেন্টস পণ্যের মোট রপ্তানি মূল্যের শতকরা দশমিক ০৩ পয়সা ব্যাংকের মাধ্যমে কেটে কেন্দ্রীয় তহবিলে জমা করা হয়। এ অর্থের অর্ধেক বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’কে দেয়া হয় তাদের শ্রমিকদের বীমা দাবী পরিশোধের জন্য। বাঁকি অর্ধেক শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। কোন গার্মেন্টস শ্রমিক দুর্ঘটনায় মারা গেলে এ তহবিল থেকে ৩ লাখ এবং বীমা বাবদ ২ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক অসুস্থ্য হলে, দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হলে সর্বোচ্চ ২ লাখ এবং শ্রমিকের সন্তানের শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা শিক্ষা সহায়তা দেয়া হয়।
মো. মুজিবুল হক বলেন, মানুষের কল্যাণে এ তহবিল গঠন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ। প্রতিদিন এই তহবিলে টাকা জমা হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ তহবিলে একশ’ ২৩ কোটি টাকা জমা হয়েছে। তার মধ্যে ৬১ কোটি টাকা এফডিআর করে রাখা আছে। বাঁকি টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। যত বেশী পোশাক রপ্তানি হবে তত বেশী টাকা এ তহবিলে জমা হবে।

image_printPrint