শুরু হলো অষ্টম ঢাকা লিট ফেস্ট

152

ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে তিনব্যাপী ‘অষ্টম ঢাকা লিট ফেস্ট’ আজ সকালে শুরু হয়েছে। দেশ-বিদেশের দুই শতাধিক লেখক, সাহিত্যিকসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে যোগ দিয়েছেন।
উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতিরি ভাষনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এই উৎসব ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। একই সঙ্গে পরিচিতি ঘটছে বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাটক, চলচ্চিত্রসহ আমাদের নানা ঐতিহ্য। বরেণ্য লেখকরা যোগ দিয়ে উৎসবকে সফল করে তুলছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমিতে প্রথম আন্তজার্তিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এক ঐতিহাসিক ভাষণ রেখেছিলেন। সেই ভাষণে তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বাংলা সাহিত্যের ওপর বিস্তারিত তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আমাদের সাহিত্য মাটি ও মানুষের এবং মানবতার উপকরণে সমৃদ্ধ। আমাদের লেখকরা পরিশ্রমী। তাঁরা সাহসী এবং উঁচুমানের সাহিত্য রচনা করেছেন। স্বাধীনতা সংগা্েরম তাদের রচনাসমুহ মুক্তিযুদ্ধে বিজয় আনার ক্ষেত্রে বিপুল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’
বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের লেখক অ্যাডাম জনসন, ভারতের চলচ্চিত্রকার নন্দিতা দাস, ঢাকা লিট ফেস্টের তিন পরিচালক সাদাফ সায, আহসান আকবর ও কে আনিস আহমেদ।
অ্যাডাম জনসন বলেন, বিশ্ব মানবতার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এখন লেখকরা কথা বলছেন। এই উৎসবেও আমরা মুক্তভাবে নিজেদের ভাবনা ও কথা তুলে ধরতে পারবো জেনে আশ্বস্ত হচ্ছি। আশা করছি ঢাকা লিট ফেস্ট উপমহাদেশের সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং মানুষের আকাক্সক্ষাকে ক্রমেই বিশ্বময় পরিচিত করতে সফল হবে।
নন্দিতা দাস বলেন, বর্তমান সময়ে উপমহাদেশে সাংস্কৃতিক বিনিময় অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অগ্রগন্য। আমার নির্মিত চলচ্চিত্র এই উৎসবে প্রদর্শনের জন্য আহবান করায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি সবাইকে তার চলচ্চিত্র ‘মান্টো’ দেখার আহবান জানান।
শিল্প মুনমুন আহমেদ, শিল্পী অপরাজিতা মোস্তফা এবং একদল শিশু শিল্পীর চারটি কথক নৃত্য পরিবেশনের মধ্যদিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। আলোচনার পরে প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিয়ষক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর উৎসবের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী দিবসে দ্বিতীয় পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা করেন অ্যাডাম জনসন, ডেবিট বেইলো, জেমস মিক, নিশিত হাজারী এবং কে আসিন আহেমদ। তৃতীয় পর্বে ‘ সাহিত্য বিষয়ে সম্পর্ক উন্নয়ন ’ নিয়ে আলোচনা করেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হানিফ এবং যুক্তরাজ্যের রোজ পর্টার এবং ‘ যে গল্পের পাঠক নেই ’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন মঈনুল আহসান সাবের ,আনিসুল হক, আহমেদ মোস্তফা কামাল, হামিম কামরুল হক ও রাশিদা সুলতানা ।
তিনদিনব্যপী উৎসব চলবে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত উৎসবের অনুষ্ঠামালা চলবে। উৎসব আয়োজনে সহায়তায় রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি।
আয়োজকরা বাসসকে জানান , তিনদিনের উৎসবে ৯০টি অধিবেশনে সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি, নারী, রোহিঙ্গা বিষয়, চলচ্চিত্র বিষয়ে আলোচনা ও উপস্থাপনা থাকবে। থাকবে কবিতা ও ছড়া বিষয়ে পাঠ ও আলোচনা। উৎসবে বাংলা একাডেমি, আগামী প্রকাশনী, ইউপিএল’সহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থার স্টল রয়েছে। স্টলে বই বিক্রয় করা হচ্ছে।

image_printPrint