শ্রীমঙ্গলে দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ায় চা উৎপাদনকারীদের ব্যয় কমবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

36
image_printPrint

ঢাকা , ১৪ মে, ২০১৮ (বাসস) : বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু হওয়ায় চা উৎপাদনকারীদের ব্যয় কমবে।
আজ বাংলাদেশ চা বোর্ডের উদ্যোগে বাংলাদেশ সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণলয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফান্সের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চা বাগান মালিকদের ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা সংরক্ষণের অনুমতি প্রদান করেছিলেন। দেশের ৯০ ভাগ চা উৎপাদন হয় সিলেট অঞ্চলে। এই চা নিলাম কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহনের ফলে এখন দেশের উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর জেলায়ও চা উৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৬৪ হাজার ৮৮৬ হেক্টর জমিতে চা উৎপাদিত হচ্ছে। চা শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ৩৩ হাজার। ২০১৭-১৮ মৌসুমে (এপ্রিল-মার্চ) নিলামে ৭৬ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন কেজি চা বিক্রয় হয়। এসময় চায়ের গড় মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২১৪ দশমিক ১০ টাকা। ২০১৭ সালে দুই দশমিক ৫৬ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭-১৯৫৮ সালে টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২-১৯৭৪ সালে চা উৎপাদনকারীদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ভর্তুকি দিয়ে অল্প মূল্যে সার সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্থ চা কারখানাগুলো চালুর জন ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া থেকে ৩০ লক্ষ ভারতীয় মূদ্রা লোন নিয়ে যন্ত্রপাতি আমদানি করেছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র থেকে নিলাম কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে এ অঞ্চলের চা উৎপাদনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবী পূরণ হলো। এতো দিন শুধু চট্রগ্রামে চা নিলাম হতো। এতে চা উৎপাদনকারীদের বেশ সমস্যা হতো এবং ব্যয় বেশি হতো। চা উৎপাদনকারীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে।
দেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম রপ্তানি পণ্য ছিল চা। তখন দেশে ১০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হতো। এর মধ্যে ৭ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি হতো। আজ দেশে ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে কিন্তু তেমন রপ্তানি করার সুযোগ হচ্ছে না। দেশের ১৬ কোটি মানুষের চায়ের চাহিদা পূরণ করতে অনেক সময় চা আমদানি করতে হয়। এর মাঝেও বাংলাদেশ ভালো মানে চায়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে কিছু চা রপ্তানি করে থাকে।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।