মাগুরায় ঘর পাচ্ছেন ১ হাজার ৪১০টি দরিদ্র পরিবার

168

মাগুরা, ২৫ অক্টোবর, ২০১৮ (বাসস) : ‘জমি আছে ঘর নেই-নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ এ প্রকল্পের আওতায় মাগুরায় ঘর পাচ্ছেন ১ হাজার ৪১০টি দরিদ্র পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় এ সুবিধা পাচ্ছেন উপকারভোগী দরিদ্র পরিবারগুলো। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় জেলার চার উপজেলায় উপকারভোগীদের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে।
জেলা প্রশাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবার জন্য গৃহ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণা অনুসারে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মাগুরা জেলার চার উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে দেয়া বরাদ্দে এসব ঘর নির্মাণসহ একটি স্বাস্থ্য সম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি ঘর নির্মাণ হচ্ছে জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। এ উপজেলায় ৭৪৬ টি ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সদর উপজেলায় ২২৭টি, মহম্মদপুরে ২৭০টি এবং শালিখা উপজেলায় ১৫২টি ঘর নির্মাণ হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৭৫ বর্গফুট। যা সিমেন্টের খুঁটি ও টিনের বেড়ার সাহায্যে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ঘরের পাশে তৈরি করা হচ্ছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। টয়লেটসহ প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।
এ প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগী যাদের ১ থেকে ১০ শতাংশ জমি আছে, কিন্তু ঘর নির্মাণের সামর্থ নেই। এমন পরিবারকেই এ গৃহ নির্মাণের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে দুস্থ অসহায় মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা মহিলা, স্বামী পরিত্যক্ত মহিলা, শারীরিকভাবে পঙ্গু, পুনর্বাসিত ভিক্ষুক, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী, আয় উপার্জনে অক্ষম, অতি বার্ধক্য এবং পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য নেই এমন ব্যক্তি এ সুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া এসব সুবিধাভোগীদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় জেলার চার উপজেলায় গৃহনির্মাণের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় মাগুরা সদর ও মহম্মদপুর উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ২১২টি ঘর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এ প্রকল্পের আওতায় জেলার তিন উপজেলায় ৫টি করে মোট ১৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিন শ্রীপুর উপজেলার নাকোল পশ্চিম পাড়া গ্রামে কথা হয় হাসি বেগম (৪০) এর সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১৫ বছর স্বামী তালেব শেখের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকে ২ মেয়ে তানজিলা ও খাদিজাকে নিয়ে আমি ভাই সাকুর শেখের বাড়িতে থাকতাম। পরের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এক পর্যায়ে পৈতৃক সূত্রে দুই শতক জমি পেলেও সামর্থ না থাকায় বসবাসের জন্য কোন ঘর তৈরি করতে পারিনি। এ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ায় মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছি। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
একই উপজেলার বড়ালিদহ গ্রামের রাহেলা বেগম জানান, প্রায় একযুগ আগে তার স্বামী কুদ্দুস মোল্যার মৃত্যুর পর দুই ছেলে সোহেল ও রুবেলকে নিয়ে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে তার দিন কাটছিল। স্বামীর রেখে যাওয়া আড়াই শতক জমি থাকলেও অর্থের অভাবে ঘর নির্মাণ করেতে পারছিলেন না। সরকারের দেয়া ঘর পেয়ে তিনি বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। যে কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোয়া করার পাশপাশি দীর্ঘ জীবন কামনা করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আলী আকবর জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ‘জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পের’ মাধ্যমে অসহায় মানুষের জন্য ঘর নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলায় সুবিধাভোগী দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারের প্রতি অত্যন্ত খুশি।

image_printPrint