রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে রাজি করাতে ওআইসির প্রতি ঢাকার আহবান

79

ঢাকা, ৫ মে, ২০১৮ (বাসস) : রোহিঙ্গাদের নিজ আবাসভূমি রাখাইনে স্থায়ীভাবে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে রাজি করাতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর জন্য ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী আজ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনে এ আহবান জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী রোহিঙ্গাদেরকে বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু বলে উল্লেখ করে বলেন, তাদের জন্য আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারকে রাজি করতে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের গনহত্যার পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে তাদের নিজ আবাসভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
এরআগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে দু’দিনব্যাপী ওআইসি-সিএফএম সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং ওআইসি’র মহাসচিব ইউসেফ এ ওথাইমীন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৪৪তম সিএফএম এর চেয়ার এবং আইভরি কোস্টের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কেল অ্যামন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর কাছে ৪৫তম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনের চেয়ারের প্রতিনিধি বেকির বোজডাগও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক ভাইস মিনিস্টার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ ফচির, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দেল বিন আহমেদ আল- জুবায়ের এবং সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্দিকি কাবা যথাক্রমে এশিয়া, আরব ও আফ্রিকা গ্রুপ থেকে বক্তব্য রাখেন।
এ বছরে সিএফএম এর ৪৫তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ”টেকসই শান্তি, সংহতি ও উন্নয়নের জন্য ইসলামিক মূল্যবোধ”।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বলেন, প্রতিপাদ্য হচ্ছে তিনটি পিলারের ভিত্তি। এগুলো হলো শান্তি, সংহতি ও উন্নয়ন। তিনি বলেন, সদস্য রাষ্ট্র্রগুলোর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘাত এবং বৈষম্য নিয়ে আমাদেরকে নিজেদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তিনি এ প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনি সংকটের উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে অব্যাহত মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের প্রতিটি কর্ণারে মুসলিম বিরোধি বিদ্বেষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই কেবল একটি জাতির উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও শান্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

image_printPrint