বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দন্ড হওয়ায় গ্রেনেড হামলায় দলীয় সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়েছে

63

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০১৮ (বাসস) : রাজধানীতে আজ অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে তো বিশ্বাস করেই না, উল্টা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপেক্ষর শক্তির নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে বারবার সমূলে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে।
বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দন্ড হওয়ার মধ্যদিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তাদের রাজনৈতিক ও দলীয় সংশ্লিষ্টতা আবারো প্রমাণ হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি তার প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আর বিএনপি যে একটা সন্ত্রাসী সংগঠন এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট। তাই এদেশে তাদের রাজনীতি করার আর কোন সুযোগ নেই।
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সিটিজেন ফর রেসপনসিবল ডেমোক্রেসি নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় : বিএনপির বৈধতার সংকট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-হানিফ বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের চর হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। বিভিন্নভাবে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সমর্থ হন। মুক্তিযোদ্ধারা ছিল তার চোখের বিষ। তিনি ধরে ধরে মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের ফাঁসি দিয়েছিলেন।
বিএনপির সমালোচনা করে হানিফ বলেন, দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় প্রত্যাখান আমাদের হতাশ করেছে। দেশের মানুষের প্রত্যশা ছিল, বিএনপি ক্ষমা প্রার্থনা করে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসবে। কিন্তু সেটা না করে তারা ওই মিথ্যাচারের রাজনীতিতেই থেকে গেলেন।
সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ২১ আগস্ট হামলার দিকে তাকালে দেখা যায় এটা কোন রাজনৈতিক হত্যাকান্ড নয় বরং দার্শনিক হত্যাকান্ড। দেশে আওয়ামী লীগ যেমন একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, আর অন্য শক্তিটা হল বিএনপি, জামায়াত। বঙ্গবন্ধুর খুনি, জঙ্গী এই চারটা মিলে তৈরি নেক্সাস। এই নেক্সাস বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে পড়েছে। যতদিন ক্যান্সার না সাড়ানো যাবে, ততোদিন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এ সমস্যা থেকে যাবে।
মানবাধিকার কর্মী খুশি কবীর বলেন, সরকারের সহায়তা ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটানো সম্ভব ছিল না। এটা আরো স্পষ্ট হওয়া উচিত।
সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, বিএনপি জর্জমিয়া নাটক করে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যে মশকরা করেছে, তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আরেকটা মামলা হওয়া উচিত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পেছনে পাকিস্তান, আফ্রিকান জঙ্গীবাদ, বিএনপি, জামায়াত, জঙ্গী সবার সংশ্লিষ্টতা ছিল।
ড. আশিকুর রহমানের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, মঞ্জুরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার তৌকির আহমেদ, অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আলী শিকদার, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, আওয়ামী লীগ নেতা রাশেক রহমান প্রমুখ।

image_printPrint