নারায়ণগঞ্জে পুনঃনির্মিত আলী আহমদ চুনকা মিলনায়তন উদ্বোধনের অপেক্ষায়

40
image_printPrint

নারায়ণগঞ্জ, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ (বাসস) : নগরীর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের এক সময়ের কেন্দ্রবিন্দু আলী আহমদ চুনকা পাঠাগার ও মিলনায়তনের পুনঃনির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পুনঃনির্মিত ভবনটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায়। ১৯৮৪ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার জনপ্রিয় চেয়ারম্যান আলী আহমদ চুনকা মারা যাওয়ার পরে পৌরসভার মিলনায়তন ও পাঠাগারের নামকরণ করা হয় ‘আলী আহমদ চুনকা পৌর মিলনায়তন ও পাঠাগার’।
নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেন, ‘প্রায় আটবছর আগে পুনঃনির্মাণের জন্য ভেঙ্গে ফেলা পর্যন্ত এটি ছিলো নারায়ণগঞ্জের সকল সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র। পরে আমরা চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করেছি। তবে শহীদ মিনারে ঝড়-বৃষ্টির দিনে অনুষ্ঠান করতে কিছুটা সমস্যা ছিলোই। ’
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজগর হোসেন জানান, ২০১১ সালের ৭ মে মিলননায়তন ও পাঠাগার পুনঃনির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তÍর স্থাপন করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে প্রায় ৭ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জায়গা জুড়ে ৬ তলা বিশিষ্ট পাঠাগার ও মিলনায়তন পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের ২২ মে। চার বছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নকশা পরিবর্তনসহ নানা কারণে তিনদফায় টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে দুু’বছর কাজ বন্ধ থাকে। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ আবারো নির্মাণ কাজ শুরু হয়।’
তিনি জানান, বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সাবেক সভাপতি ও পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরামর্শক শামীম জেড বসুনিয়া ও নুরুজ্জামানের প্রণয়ন করা নকশা ও পরিকল্পনায় ‘আলী আহমদ চুনকা মিলনায়তন ও পাঠাগারটি’ নির্মিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ ।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, ছয়তলা বিশিষ্ট এ ভবনে রয়েছে ৩০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তন। এর মধ্যে রয়েছে, গ্রীন রুম, উন্মুক্ত গ্যালারী, আছে বসার জন্য উন্মুক্ত স্থান। তৃতীয় তলায় রয়েছে ২টি আর্ট গ্যালারী, খাবারের জন্য থাকবে ক্যাফেটেরিয়া। ৫ম তলায় আছে প্রায় ১৫০ জনের বসার স্থানসহ পাঠাগার ও একটি স্টুডিও থিয়েটার, শিশুদের জন্য ২টি লাইব্রেরী, বই পড়ার কক্ষ। ছাদে আছে যেকোন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য উন্মুক্ত জায়গা।
এছাড়াও ৭ হাজার ৫৩৩ বর্গফুট জায়গায় তিন স্তরে নির্মিত এই ভবনের নিচতলায় রয়েছে গাড়ি পার্কিং, ওয়াটার ট্যাংকি, জেনারেটর রুম, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, নাটকের জন্য মঞ্চ, অস্থায়ী ডিসপ্লে মঞ্চ ইত্যাদি। প্রাণ খুলে আড্ডা দেয়ার একটি আধুনিক ও নির্মল জায়গা হবে এই মিলনায়তন। লেবেল-২ ও ৩-এ স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রে মোঘল আমল থেকে নারায়ণগঞ্জের একাল-সেকালের ইতিহাস ঐতিহ্যের স্থিরচিত্র রাখা হবে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘আটবছর পর নারায়ণগঞ্জবাসী ফিরে পেতে যাচ্ছে আলী আহমদ চুনকা নগর মিলনায়তন ও পাঠাগার। আমরা এই মিলনায়তনের আলো, শব্দসহ বিভিন্ন বিষয়গুলি ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখছি। অচিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিলনায়তন খুলে দেয়া হবে।’