চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল পেতে জাপানের টিপিএম কৌশল গ্রহণের পরামর্শ

52
image_printPrint

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল পেতে শিল্পোন্নত জাপানের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ (টিপিএম) কৌশল অনুসরণের তাগিদ দিয়েছেন উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, এ কৌশল বাংলাদেশসহ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সবচেয়ে ফলপ্রসূ হতে পারে। এর যথাযথ প্রয়োগ শিল্প কারখানায় ‘স্মার্ট প্রোডাক্টিভিটি’ বাড়াতে সক্ষম বলে তারা মন্তব্য করেন।
আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ কৌশলের যথাযথ প্রয়োগ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মশলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এ তাগিদ দেন। জাপানভিত্তিক এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এপিও) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এর যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এনামুল হক। এতে ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশনের পরিচালক এস.এম. আশরাফুজ্জামানসহ জাপান ও মালয়েশিয়ার উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণ (টিপিএম) কৌশল প্রয়োগ শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসার গুণগত উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখে। এ পদ্ধতি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে জ্ঞানের দিগন্ত প্রসারে সহায়তা করে। জ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়নের ধারা জোরদারের মাধ্যমে এ পদ্ধতি বাংলাদেশসহ এপিও’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ অর্জনের পথ সুগম করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. এনামুল হক বলেন, ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাতে প্রযুক্তি দক্ষ জনবল তৈরি ও লাগসই প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রয়াস উৎপাদনশীলতা ও সেবার মান বাড়াবে। জ্ঞানভিত্তিক শিল্পায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সবুজ শিল্পায়ন ও টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতার নীতি গ্রহণ করেছে। এর ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশিয় শিল্প উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হচ্ছে। ক্রেতা-ভোক্তাদের সন্তুষ্টি অর্জনকে আধুনিক শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের মূল লক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কাঁচামালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে অল্প খরচে আন্তর্জাতিকমানের পণ্য ও সেবা উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেন।
চার দিনব্যাপী বাংলাদেশসহ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১১টি দেশ থেকে আগত ১৯ জন প্রশিক্ষণার্থী এবং ২ জন আন্তর্জাতিক উৎপাদনশীলতা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন। কর্মশালায় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প, সেবা ও কৃষিখাতের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা, পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় হবে। এর ফলে এশিয়া অঞ্চলের গুণগত শিল্পায়নের অভিযাত্রা বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।