প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন : আওয়ামী লীগ

300

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে শুধু অর্থনৈতিকভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাননি, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। তাই আজ ২৮ সেপ্টেম্বর শুধু তার জন্মদিন নয়, একটি জাতির পুনরুজ্জীবনেরও দিন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আজ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।
তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে পরিপূর্ণতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই জাতিসংঘে বিশ্বনেতারাও তার সরকারের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করেছেন।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ আরাফাত, ডা. নুজহাত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞাণ বিভাগের ছাত্র মাজহারুল কবির স্মরণ ও ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাণীবিজ্ঞাণ বিভাগের ছাত্রী সুরাইয়া খানম তমা।
আমির হোসেন আমু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্বে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বিশ্বনেতারা বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হোন তা তারা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যই মহান সৃষ্টিকর্তা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তিনি দেশকে উন্নতির নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছেন। নিজ দক্ষতায় নিজেকে তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আমু বলেন, দেশী-বিদেশী সকল অপশক্তিকে মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তাই তারা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য অনশন কর্মসূচী পালন করছেন এবং গণবিচ্ছিন্নদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের নামে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্ঠা করছেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ তৃনমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এমন কোন শক্তি নেই যে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে।
তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য সংসদীয় দেশের মত ক্ষমতাসীনদের অধীনেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন ঠেকানোর মত ক্ষমতা কারো নেই।
তোফায়েল বলেন, দেশের সব দল কোন বিষয়ে যখন একত্রিত হয়, তখন তাকে জাতীয় ঐক্য বলে। আওয়ামী ও ১৪ দলকে বাদ দিয়ে কোন জাতীয় ঐক্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, দলছুট ও নীতিহীন নেতাদের মানুষ পছন্দ করে না। আর জাতীয় ঐক্যের নামে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে যারা একত্রিত হয়েছেন তারা সকলেই দলছুট নেতা। তাদের কারো সঙ্গে কারো মিল হবেনা। আর তাই ডা. বি চৌধুরী যখন ময়মনসিংহে সভা আহবান করেছেন তখন ড. কামাল চিকিৎসার নামে বিদেশ যাচ্ছেন।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তার সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আর এ সমস্যা শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। ১৯৯২ সালেও রোহিঙ্গারা এসেছে। সে সময়ে তারা এ সংকটকে আন্তর্জাতিক ফোরামে উঠাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির দোসর সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের উন্নয়ন বিনষ্ট করতে আবারো অশুভ তৎপরতা শুরু করেছে। আমরা বিএনপির কোন পাল্টা কর্মসূচী দেব না। তবে তারা দেশে যাতে কোন ধরনের নাশকতা করে মানুষকে জিম্মি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকব।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে আমাদের শপথ হবে,আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিএনপি ও তাদের সাম্প্রদায়িক দোসরদের পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক নৌকাকে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছানো।

image_printPrint