পানি সম্পদের সৌহার্দ্যপূর্ণ অংশীদারিত্বই সহযোগিতার সোনালি চাবি : তথ্যমন্ত্রী

67

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘পানি সম্পদের সৌহার্দ্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব ও সামষ্টিক ব্যবহারই আঞ্চলিক সহযোগিতার সোনালি চাবি। বঙ্গোপসাগরের তীরে ‘দুঃখের পানি’কে ‘আশার পানি’তে পরিণত করার এখনই সময়।’
মন্ত্রী মঙ্গলবার ভারতের সিকিম প্রদেশের গ্যাংটকে ‘ইন্টিগ্রেটিং বিমসটেক ২০১৮’ সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে একথা বলেন।
আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়ে বলা হয় , দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত রাষ্ট্রের আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেক’কে আরো সংহত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সিকিমের পর্যটনমন্ত্রী ভীম প্রসাদ ধাঙ্গেল।
এশিয়ার এ অংশের অভিন্ন নদ-নদীর পানির সুষম বন্টনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের অববাহিকা জুড়ে সহ¯্রাধিক নদ-নদী প্রবাহিত। এসব নদ-নদী আমাদের সম্পদ হলেও প্রায়শই দুঃখের কারণ ঘটায়। আর এখন দু’দশকে পরিণত হয়ে ওঠা ‘বিমসটেক’ সহযোগিতায় সেই ‘দুঃখের পানি’কে ‘আশার পানি’তে পরিণত করার সময় এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘জোরালো আঞ্চলিক সহযোগিতাই বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকার হাতিয়ার। আর আমরা জীবনসঙ্গী পাল্টাতে পারলেও প্রতিবেশী পাল্টাতে পারি না। তাই প্রতিবেশীর সাথে শান্তিতে বসবাস করতে শেখাই উত্তম।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ বা ‘প্রতিবেশী প্রথম’ ও ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ বা ‘পূর্বে কাজ কর’-এর ওপর দৃষ্টি দিয়ে বিমসটেক’কে নিছক নীতি-চালিত আঞ্চলিক সহযোগিতার সংগঠনের বদলে একে বাজারচালিত ও গণমুখী সংগঠনে পরিণত করা, সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে দ্বিপক্ষীয় সমস্যার সমাধান করা এবং সহযোগিতার খাতিরে জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয়াদি দূরে সরিয়ে রাখাসহ ৫ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
‘আমরা বর্তমানে এশীয় শতাব্দীতে বাস করছি’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র্র বিন্দু এখন এশিয়ার দিকে ধাবিত এবং আমাদের অঞ্চলের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে। আর দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে অনন্য সহযোগিতার সংগঠন বিমসটেক এর সুফল উঠাতে প্রস্তুত।’
উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইসিসি’র অ্যাক্ট ইস্ট কাউন্সিল চেয়ারম্যান রজত নাগ। বিমসটেক সচিবালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, আইসিসিবি সভাপতি মতলুব আহমাদ, শ্রীলংকার প্রফেসর এমিরেটাস ড. গামিনী কিরাওয়েলা এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পিযুষ শ্রীবাস্তব এসময় বক্তব্য রাখেন।
১৯৯৭ সালে গঠিত বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল এন্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) এর বর্তমান সদস্য দেশ ৭টি। বিমসটেক সদস্য বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের বাস, যা বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ। ২০১৪ সালে ঢাকায় বিমসটেকের স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

image_printPrint