সাউদাম্পটনকে হারিয়ে এফএ কাপের ফাইনালে চেলসি

51
image_printPrint

লন্ডন, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ (বাসস) : সাউদাম্পটনকে পরাজিত করে এফএ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চেলসি। রোববার ওয়েম্বলীতে অলিভার জিরুদ ও আলভারো মোরাতার গোলে সাউদাম্পটনকে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে উঠে ব্লুজরা, যেখানে তাদের জন্য আগেই অপেক্ষায় আছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
সাউদাম্পটনের বিপক্ষে জিরুদের গোল দেয়া যেন অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। একপেশে সেমিফাইনালে প্রায় পুরোটা সময়ই এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মত। আলভারো মোরাতার স্থানে মূল একাদশে জায়গা পেয়েই কোচ এন্টোনিও কন্টের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন জিরুদ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অসাধারণ দক্ষতায় দারুন এক গোলে করে সাবেক এই আর্সেনাল তারকা চেলসিকে এগিয়ে দেন। গত সপ্তাহে প্রিমিয়ার লীগে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লীগে ৩-২ গোলে জয়ী ম্যাচটিতেও দুই গোল করেছিলেন জিরুদ। এছাড়া ডিসেম্বরে আর্সেনালের হয়েও ম্যাচের শেষ ভাগে তার গোলেই সমতায় ফিরেছিল গানার্সরা। জানুয়ারিতে দলবদলের পরে এটা ছিল চেলসির জার্সি গায়ে জিরুদের চতুর্থ গোল। জিরুদের গোলের পরে ৮২ মিনিটে বদলী হিসেবে মাঠে নামা মোরাতার হেডে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়। আগামী ১৯ মে ওয়েম্বলীতে হেভিওয়েট ফাইনালে ইউনাইটেডের মুখোমুখি হবে কন্টের দল।
লীগে বাজে একটি মৌসুম কাটানো চেলসির জন্য এটাই বড় কোন টুর্নামেন্টে শিরোপা জেতার শেষ সুযোগ। চেলসির জন্য ১৩তম এই এফএ কাপ ফাইনালটি ২০০৭ সালের প্রতিশোধের একটি মিশনও হতে পারে। ঐ আসরে হোসে মরিনহোর দল ১-০ গোলে জয়ী হয়েছিল। গত মে মাসেও ফাইনালে আর্সেনালের কাছে পরাজিত হয়ে হতাশ হতে হয় ব্লুজদের। সর্বশেষ তারা ২০১২ সালে এফএ কাপের শিরোপা জিতেছিল। এবার তাদের সামনে অষ্টমবারের মত শিরোপা জয়ের হাতছানি। যদিও এফএ কাপের শিরোপা কন্টে অথবা চেলসি মালিক রোমান আব্রামোভিচ কারো জন্যই যথেষ্ঠ নয়। বিশেষ করে প্রায় পুরোটা মৌসুম জুড়েই ট্রান্সফার সংক্রান্ত পরিকল্পনার অভাবে কন্টেকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়াও দলের বেশীরভাগ খেলোয়াড়ই কন্টের অতিরিক্ত ট্রেনিং সেশন ও গম্ভীর ব্যক্তিত্ব নিয়ে খুব একটা খুশী নয়। প্রিমিয়ার লীগে টটেনহ্যামের থেকে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে চতুর্থ স্থানটিও প্রায় হাতছাড়া হবার পথে। যে কারনে চ্যাম্পিয়নস লীগে সরাসরি খেলার সুযোগও প্রায় শেষ। আর তাই অন্তত এফএ কাপের শিরোপা ঘরে তোলার মাধ্যমে হতাশাজনক মৌসুমে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে ব্লুজ শিবিরে।
এদিকে সাউদাম্পটনের সামনে এখন একটাই লক্ষ্য, কোনমতে লীগে রেলিগেশনের খড়া এড়িয়ে নিজেদের লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখা। হাতে রয়েছে মাত্র চারটি ম্যাচ। গতকাল সেমিফাইনালে সাউদাম্পটন গ্যালারিতে প্রায় বেশীরভাগ আসনই খালি ছিল। এতেই প্রমানিত হয় সমর্থকরা দলের পারফরমেন্সে দারুন হতাশ। কালকের ম্যাচে তারা কোনদিক থেকে চেলসিকে আটকাতে পারেনি। সেমিফাইনালটা ছিল একেবারেই একপেশে। শুরু থেকেই ইডেন হ্যাজার্ড একের পর এক সাউদাম্পটনের শিবিরে আক্রমন করেছেন। ২৫ গজ দুর থেকে হ্যাজার্ডের শক্তিশালী শট অল্পের জন্য চেলসিকে এগিয়ে দেয়নি। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে উইলিয়ানকে দুর্দান্ত একটি পাস দিলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান। বিরতির ঠিক আগে অসাধারণ একটি ভলিতে জিরুদ প্রায় গোল পেয়েই গিয়েছিলেন।
তবে শেষ পর্যন্ত বিরতি থেকে মাঠে ফিরেই সফল হয় চেলসি। ৪৬ মিনিটে সেস ফ্যাব্রেগাসের লফটেড পাস থেকে হ্যাজার্ড দারুনভাবে বলটি নিয়ন্ত্রনে নিয়ে জিরুদের দিকে বাড়িয়ে দেন। তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জিরুদ নিখুঁত শটে ডেডলক ভাঙ্গেন। কিছুক্ষন পরে জিরুদের বিপক্ষে সাউদাম্পটনের ইংলিশ ফরোয়ার্ড চালি অস্টিন পেনাল্টির আবেদন করলেও তা নাকচ করে দেন রেফারি মার্টিন এ্যাটকিনসন। শেষ পর্যন্ত মার্ক হিউজেসের দল সমতায় ফেরার একটি সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ন্যাথান রেডমন্ডসের দুর পাল্লার শট কাবালেরো কোনমতে কর্ণারের মাধ্যমে রক্ষা করেন। তবে ৮০ মিনিটে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে আসা মোরাতা দুই মিনিট পরেই দলের পক্ষে দ্বিতীয় গোল করলে চেলসির জয় নিশ্চিত হয়। চেলসির হয়ে শেষ ১৯ ম্যাচে এটি ছিল মোরাতার তৃতীয় গোল। গত বছর রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আসার পর মোরাতা নিজেকে প্রমান করতে পারেননি।