মুক্তিযোদ্ধাদের বছরে ৫টি বোনাস-ভাতা দেয়া হবে : মোজাম্মেল হক

97

শেরপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেছেন, এখন থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসসহ বছরে ৫টি বোনাস ও ভাতা পাবেন। চলতি বছর ডিসেম্বর থেকেই এটি কার্যকর হবে।
তিনি বলেন, ‘যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের যুদ্ধস্মৃতি কমপক্ষে ১০ মিনিটের ভিডিও করে সংরক্ষণ করা হবে।’
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মুক্তমঞ্চে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সোহাগপুরের শহীদ জায়াদের সংবর্ধনা, সন্ত্রাস ও মাদক বিরোধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শেরপুরের পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সোহাগপুরের ২৯ শহীদ জায়াকে ক্রেস্ট ও নগদ ১০ হাজার টাকা করে সম্মাননা প্রদান করা হয় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
‘সারাদেশের বদ্ধভূমিগুলোতে একই ডিজাইনের স্মৃতিসৌধ করা হবে’- একথা উল্লেখ করে আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় যেখানেই পাকহানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়েছে সেখানেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে ২৮টি জেলায় স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি এলাকায় মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাহিত করার জন্য একই ডিজাইনের কবরস্থান এবং জেলা ও উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করে বাসস্থান নির্মাণ করে দেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশের সকল মেডিকেল কলেজ, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধারা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। প্রতিটি হাসপাতালে সব রকমের চিকিৎসার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর জিয়ার আমলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি চিহ্ন ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজাকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যা করেছেন, দেশের আর কোন সরকার তা করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের রেশন থেকে শুরু করে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
চাকরি ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে। জীবন বাজি রেখে যারা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন, তাদের সন্তানরা কোটা পাবে এটাই স্বাভাবিক।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির রুমান প্রমুখ।
এর আগে সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন।

image_printPrint