কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে : এনবিআর চেয়ারম্যান

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : রাজস্ব আয় বাড়াতে কর ফাঁকিবাজ বিত্তশালীদের চিহ্নিত করার জন্য কমিশনারেটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যত বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন, তাদের সবাইকে করের আওতায় আনতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছি।কমিশনাররা তাদের চিহ্নিত করছেন। আমাদের যেসব করাঞ্চল রয়েছে,সেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ করদাতাদের ফাইলগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে।পাশাপাশি কর ফাঁকিবাজ বাড়ি ও ফ্লাট মালিকদের করের আওতায় এনে করের পরিধি বাড়ানোর চেস্টা করছি।’
বুধবার রাজধানীর শান্তিনগরে বিসিএস (কর) একাডেমিতে ৩৬তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া সহকারী কর কমিশনারদের ছয় মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিসিএস (কর) একাডেমির মহাপরিচালক বজলুল কবির ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন) জিয়া উদ্দিন মাহমুদ,বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাক্সসেশন) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও করাঞ্চল-৮ এর কমিশনার সেলিম আফজাল বক্তব্য রাখেন।
প্রশিক্ষণে ৪২ জন বিসিএস (কর) ক্যাডার কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।এর মধ্যে ৩৬তম বিসিএসের ৩৯ জন আর বাকি তিনজন ৩৪তম বিসিএসের।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামে কর প্রদানে সক্ষম এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন,যারা করের আওতার বাইরে আছেন। তাদের করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।এদের করের আওতায় আনতে আমরা সেখানে দক্ষ কর্মকর্তা গ্রামে নিয়োগ দিয়েছি। এসব কর্মকর্তাদের কাজ হবে ওইসব ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে নয়, বরং বুঝিয়ে তাদের করের আওতায় আনাতে হবে।
গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অনেকেই নির্বাচনী প্রচারনায় কোটি টাকা ব্যয় করে এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এত টাকা তারা খরচ করছেন কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কর দিচ্ছেন কিনা সেটা আমাদের দেখতে হবে।অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অনেকেই ইটিআইএন নির্বাচন অফিসে জমা দিয়েছে। কিন্তু তাদের কোন রিটার্নপত্র জমা হয়নি।সেই ক্ষেত্রে তাদের কর প্রদানের বিষয়টি অপরিষ্কার রয়ে যায়। তাই তাদের করদানের বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন।
নবীন কর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য মোশাররফ হোসেন বলেন, কর আহরণের ক্ষেত্রে কোথাও চাপ সৃষ্টি করে নয়,বরং কর সচেতনতা তৈরি করে কর প্রদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।চাপ দিয়ে বেশি কর আদায় বাহাদুরীর ব্যাপার নয়।তবে করের আওতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তোমাদের সবময়ই সচেতন থাকতে হবে।
তিনি ইলেকট্রনিক কর সনাক্তকরণ নম্বরধারীর (ইটিআইএন) সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বাপরোপ করেন।