২১ আগস্ট হামলার ষড়যন্ত্র অপরাধ সংগঠন সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত : রাষ্ট্রপক্ষ

149
image_printPrint

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র, অপরাধ সংগঠন, অপরাধের আলামত ধ্বংস ও অপরাধীদের বাচাঁনোর চেষ্টাসহ আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী আকরাম উদ্দিন শ্যামল আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশকালে আজ এ কথা বলেন।
আজ বিশেষ পিপি মো.আবু আব্দুল্লাহ্ ভ্ুঁইয়া, আকরাম উদ্দিন শ্যামল আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ শেষ করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌসুঁলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আইনি পয়েন্টে শুনানি শুরু করেন। আগামী ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ওই ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে।
যুক্তিতর্কে আকরাম উদ্দিন শ্যামল এ মামলার অধিকতর তদন্ত বিষয়ে বলেন, এ মামলায় অধিকতর তদন্তে আইন ও পদ্ধতিগত কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। তিনি বলেন, বিদ্যামন আইনে অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষ পিপি মো.আবু আব্দুল্লাহ্ ভ্ুঁইয়া তার যুক্তিতর্কে বলেন, ২১ আগস্ট হামলার উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূণ্য করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত ও চিরদিনের জন্য স্থায়ী করা। তিনি বলেন, আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক সহায়তা, অপরাধ সংগঠনসহ সব অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ পেশ করেছে। তিনি আইনি পয়েন্টে বিভিন্ন রেফারেন্স আদালতে পেশ করেন। তিনি বলেন, একটি ডিজাইন বা ছক করে সূদুরপ্রসারি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নৃশংস এ হামলা। তিনি আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা দাবী করে তার যুক্তিতর্ক পেশ সমাপ্ত করেন।
প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান আজ আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশী সময় ধরে এ মামলা আমরা পরিচালনা করছি। এ সময় আদালত অনেক ধৈর্য্যরে প্রমাণ রেখেছেন যা ইতিহাসে অনন্য। মামলার বিচার একবারেই শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে দুটি মামলা এগিয়ে নেয়া কষ্টসাধ্য। আসামীপক্ষ এ মামলায় আইনের দৃষ্টিতে সব সুবিধা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, মামলাটিতে ৬১ জন সাক্ষির সাক্ষ-জেরার পর অধিকতর তদন্ত ও সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এতে আইনগত ও পদ্ধতিগত কোন ব্যত্যয় হয়নি বলে তিনি দাবী করেন তিনি। তার যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত রয়েছে।
এর আগে এ মামলায় দুই কার্যদিবস আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশ করেন এডভোকেট মোশররফ হোসেন কাজল।
১১৭ কার্যদিবস শেষে মামলাটি এই পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৮ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৮৯ কার্যদিবস।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট আমিনুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আইনজীবী এসএম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামীর বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষে সাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।