২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সমগ্র রাষ্ট্র ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ওপর : রাষ্ট্রপক্ষ

85

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ বর্বরোচিত ও নৃশংস গ্রেনেড সমগ্র রাষ্ট্র ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ওপর হামলা।
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক পেশকালে আজ এ কথা বলেন। আজ কাজল রাষ্ট্রপক্ষে আইনি পয়েন্টে শুনানি শেষ করেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি মো. আবু আব্দুল্লাহ্ ভ্ুঁইয়া যুক্তিতর্ক পেশ শুরু করেন। কাল বুধবারও এ মামলার তারিখ ধার্য রয়েছে।
রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে একুশে আগস্টের ওই ঘটনায় আনা পৃথক মামলায় একই সঙ্গে বিচার চলছে।
যুক্তিতর্কে মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ হামলা ও চক্রান্তকারীদের হাওয়া ভবনে বৈঠকের ব্যবস্থা করেন। কাজল বলেন, এ মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট নৃশংস গ্রেনেড হামলার টার্গেট ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাকে হত্যা করাই ছিলো গ্রেনেড হামলার উদ্দেশ্য। আর এর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন তারেক রহমান। অন্য দেশে হলে এই ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা আর রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে সকল আসামির ফাঁসি হতো।
কাজল বলেন, ২১ আগস্ট হামলার জন্য জঙ্গি মুফতি হান্নানের একটি দর্শন ছিলো। অন্য আসামীদের বিভিন্ন লক্ষ্যপূরণের টার্গেট ছিল। হান্নানের দু দফায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কোন আইনগত ব্যত্যয় ঘটেনি। এ স্বীকারোক্তির ফলে ঘটনার চক্রান্তকারীদের বিচারের মূখোমূখি করা সম্ভব হয়েছে। ২১ আগস্ট নিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে কাজল বলেন, ২১ আগস্ট হামলার জন্য আসামীদের মোটিভ ছিল ভয়ংকর। বঙ্গবন্ধুর রক্তকে নি:শেষ করা এবং আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব শুন্য করে দেশকে পাকিস্তানি কায়দায় নিয়ে যাওয়া ছিল এ হামলার উদ্দেশ্য। সকল আসামীর আইন অনুযায়ি সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে কাজল বলেন, সমগ্র দেশবাসী এ মামলায় ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
মোশররফ হোসেন কাজল তার যুক্তির পক্ষে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মামলার রেফারেন্স তুলে ধরেন।
কাজল বলেন, গ্রেনেড হামলা মামলায় জামিনে থাকা আসামিরা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন কিংবা আত্মগোপনে থাকতে পারেন। তাই তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হোক। এছাড়া বিদেশে আগে থেকে পালিয়ে থাকা আসামিদের রেড ওয়ারেন্টসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য আদালতে আবেদন জানান মোশাররফ হোসেন কাজল।
১১৬ কার্যদিবস শেষে মামলাটি এই পর্যায়ে এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ নিয়েছে ২৭ কার্যদিবস আর আসামিপক্ষ নিয়েছে ৮৯ কার্যদিবস।
আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে হামলার সময় দলটির সভানেত্রী ও ওই সময়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতা করছিলেন। বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যুদ্ধাস্ত্র ভয়াবহ আর্জেস গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও দলটির নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক আহত হন।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান, এডভোকেট আকরাম উদ্দিন শ্যামল, এডভোকেট ফারহানা রেজা, এডভোকেট আমিনুর রহমান, আশরাফ হোসেন তিতাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আসামীপক্ষে আইনজীবী এস এম শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামীর সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে ৩ জন আসামীর অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এখন ৪৯ আসামীর বিচার চলছে। এর মধ্যে এখনো ১৮ জন পলাতক। মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, সেনা কর্মকর্তা রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেয়। আসামীপক্ষে সাক্ষিদের জেরা করেছে। গত বছরের ৩০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দের জেরা শেষের মধ্যদিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

image_printPrint