চলতি অর্থবছরে ৮.২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে : মুস্তফা কামাল

124

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ (বাসস) : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, চলতি বছর (২০১৯) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জিত হবে।
আজ নগরীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’-এ বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী গত অর্থবছরে (২০১৮) জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছিলো। আর যখন শিগগির চূড়ান্ত প্রাক্কলন করা হবে তখন তা আরো বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করছি, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ ছুঁবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ২০২৫ সালে ৯ শতাংশে এবং ২০৩০ সালে ১০ শতাংশে পৌঁছবে।
তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ায় আমরা এ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবো এবং দেশব্যাপী বিশেষায়িত রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যতার স্তর শূন্যে নেমে আসবে বলেও তিনি জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ব জিডিপি র‌্যাংকিং পরিসংখ্যান উল্লেখ করে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পাওয়ার পারচেইজিং প্যারিটি (পিপিপি) অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৩১তম। আর দেশের জিডিপি আকার বর্তমানে ৭৫১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩ সাল নাগাদ জিডিপি’র আকার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১,১৫৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে। তখন বাংলাদেশের অবস্থান আরো একধাপ এগিয়ে ৩০তম অবস্থানে উন্নীত হবে।
তিনি বলেন, ২০২৩ সাল নাগাদ পিপিপি’র নিরিখে দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, ইউএই, ভিয়েতনাম, ইরাক ও সিঙ্গাপুরের মতো বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পেছনে থাকবে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) অনুমোদিত ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর কথা উল্লেখ করে কামাল বলেন, সরকার পানিস্পদ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দুর্যোগ মোকাবেলার মাধ্যমে বদ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ সফলভাবে বাস্তবায়ন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।
দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতে নেদারল্যান্ডের মতো বিপ্লব সংঘটিত হবে।’
দেশে নদী শাসন ও ব্যবস্থাপনা একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে টেকসই ফল পাওয়া সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়ন প্রভূত সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা অনুযায়ী নাব্যতা রক্ষায় যখন প্রয়োজন হবে তখন দেশের নদীগুলোর ক্যাপিটাল ও মেনটেইন্যান্স ড্রেজিং করা হবে। ফলে জলপথে অভ্যন্তরীণ পরিবহন অন্যান্য পরিবহনের তুলনায় অধিক সাশ্রয়ী হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হবে না। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার যখন গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তখন এর জন্য একটি নতুন নকশা প্রণয়ন করা হবে।

image_printPrint