মরমী কন্ঠশিল্পী আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

147
image_printPrint

ঢাকা, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ (বাসস) : বাংলা গানের মরমী ও লোক সংগীত শিল্পী আবদুল আলীমের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক এই শিল্পী লোক সংগীতের নানা ঘরানায় গান গেয়ে বাংলা গানের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।
শিল্পী আবদুল আলীম একাধারে পল্লীগীতি, লোক সংগীত, মরমী গান, বিচ্ছেদ, ভাওয়াইয়া, লালন, হাছন রাজার গান, প্রেম ও চলচ্চিত্র’সহ বিভিন্ন ধারার গান পরিবেশন করেন। শিল্পীর ভরাট ও শ্রতিমধুর কন্ঠ এবং পরিবেশনায় নিজস্ব গায়কী ঢঙের ফলে লোকগানের একজন শিল্পী হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জণ করেন।
শিল্পী আবদুল আলীম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই তৎকালীন ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যনকালেই তিনি গান গাওয়া শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে শিল্পী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় এসেই তিনি তৎকালীন ঢাকা রেডিওতে নিয়মিত গান গাওয়া শুরু করেন। সেই থেকে আজীবন তিনি একজন মেধাবী শিল্পী হিসেবে লোকসংগীত পরিবেশন করে অগণিত মানুষের মন জয় করেন।
শিল্পী আবদুল আলীলের গাওয়া জনিপ্রয় গানের মধ্যে রয়েছে চিরদিন পোষলাম এক অচিন পাখি, এই যে দুনিয়া কিসেরও লাগিয়া, সর্বনাশা পদ্মা নদী, হলুদিয়া পাখি সোনারই বরণ, নাইয়ারে নায়ের বাদাম ত্ইুলা, দুয়ারে আইসাছে পালকি, আমারে সাজাইয়া দিও, পরের জায়গা পরের জমি, মনে বড় আশা ছিল, সব সখিরে পার করিতে নেব আনা আনা, উজান গাঙের নাইয়া, এই সংসারে কেউ নাই আপন জনা প্রভৃতি।
শিল্পীর কন্ঠ দেয়া প্রায় ৩ শত গানের রেকর্ড রয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে কয়েকটি এ্যালবাম। বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম (সবাক) ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’ থেকে শুরু তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন।
‘সুজন সখি’ ছবির গানে কন্ঠ দেয়ার জন্য আবদুল আলীম ১৯৭৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৭৭ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) এবং ১৯৯৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিল্পী তৎকালীন ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ) ইন্তেকাল করেন। তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
শিল্পী আবদুল আলীমের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পী আবদুল আলীম ফাউন্ডেশন এবং তার পরিবারেরপক্ষ থেকে সকালে বনানী কবরস্থানে শিল্পীর সমাধিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হবে। পরে রয়েছে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বিটিভি ও বেসরকারি টিভিতে শিল্পীকে নিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।