আসন্ন বাজেটে ম্যানুফেকচারিং খাতে কর সুবিধা দেওয়া হবে

67

ঢাকা, ১৮ এপ্রিল, ২০১৮ (বাসস) : দেশীয় শিল্প বিকাশে আগামী বাজেটে ম্যানুফেকচারিং খাতে কর সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া।
তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত খুশির খবর যে অনেকেই শিল্প স্থাপনের দিকে আসতে চাইছেন। অতীতে কয়েকটি খাতে উৎপাদন পর্যায়ে সুবিধা দেওয়ায় উৎপাদন ও রফতানি বেড়েছে। আমরা আরো কিছু খাতে সুবিধা দিতে চাই-যাতে উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিও বাড়ে। এ জন্য এবার ম্যানুফোকচারিং ক্ষেত্রে সুবিধা দিয়ে বাজেট তৈরি করা হবে।’
বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব সম্মেলনকক্ষে ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যালস, কম্পিউটার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশীয় শিল্প সংক্ষণের ক্ষেত্রে এবার নজর দেওয়া হবে।যারা বিদেশ থেকে নিম্নমানের পণ্য এনে বাজার সয়লাব করে-তা বন্ধ করা দরকার। তবে পুরোপুরি আমদানি বন্ধ করা যাবে না। কর সুবিধার মাধ্যমে আমরা দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা দিতে চাই।
করপোরেট করহার কমানোর ইঙ্গিত করে করে মোশাররফ হোসেন বলেন,‘এবারের বাজেট আলোচনায় অনেকেই করপোরেট করহার কমানোর কথা বলছেন। তাদের দাবি-আমরা এক্ষেত্রে উদার হলে রাজস্ব আয় বাড়বে, পাশাপাশি কর ফাঁকিও কমে আসবে। এগুলোর একটা সমন্বয় আমরা করবো। এ নিয়ে আমরা কিছু চিন্তাভাবনা করেছি। সেভাবে এগিয়ে যাবো।’
চলতি অর্থবছর রাজস্ব আহরণে ৫০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি হবে-সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এমন বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন,রাজস্ব আহরণে এত ঘাটতি থাকবে না। এনবিআরের ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তাতে সংশোধন আনতে হবে ঠিক। বাজেটও প্রতিবছর সংশোধন করা হয়। তবে গত ৯ মাসের রাজস্ব আয়ের যে গতি,তাতে আমরা বলতে পারি এই চিন্তাশালার বক্তব্য অনুযায়ী ৫০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকবে না। ঘাটতি যেটা থাকবে-সেটা এর তুলনায় কম।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. রুহল আলম আল মাহবুব বলেন,এখন আমাদের মোবাইল ফোন উৎপাদনমূখী হওয়ার সময় হয়েছে। এক্ষেত্রে মোবাইল ম্যানুফেকচারিংয়ের কাঁচামাল আমদানির ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে ১ থেকে ১০ শতাংশ হারে বিদ্যমান শুল্ক প্রধান বাঁধা।এই শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে।
এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ম্যানুফেকচারিং খাতকে আমরা উৎসাহিত করছি। যারা যারা উৎপাদনমুখী হবে আমরা নীতিমালা করে তাদের সুবিধা দেবো।
ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য করতে ভ্যাট আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে সব পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।
বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানসমূহকে আগামী ৫ বছরের জন্য কর অব্যাহতি সার্টিফিকেট প্রদানের প্রস্তাব করেন।
প্রতিবছর এনবিআর থেকে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট নিতে হয়। ৫ বছরের জন্য একবারে দিয়ে দিলে তাদের ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যালস, কম্পিউটার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের ২৪টি সংগঠনটি অংশগ্রহণ করে।

image_printPrint