বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট বিষয়ের পাঠ্যসূচি আধুনিকায়ন করতে বললেন শিল্পীরা

129
image_printPrint

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ (বাসস) : বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্ট বিষয়ের পাঠ্যসূচি আধুনিকায়ন করা এবং শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে সরকারের পাশপাশি বেসরাকরী পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিভিন্ন দেশের চিত্রশিল্পীরা।
তারা একই সাথে শিল্পকর্মের বাজারজাত করার জন্য বিভিন্ন দেশের সরকার ও শিল্পীদের মধ্যেকার যোগাযোগ বৃদ্ধি করারও আহবান জানিয়েছেন।
আজ সোমবার ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে ‘আর্ট, বিজ্ঞানশিক্ষা ও উন্নয়ন ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিভিন্ন দেশের চারু ও কারুকলা এবং ভাস্কর্য শিল্পীরা এই অভিমত রাখেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ‘১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ’ উপলক্ষে এই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান শিল্পী যোগেন চৌধুরী বলেন, চারুশিল্পীরা হচ্ছেন আধুনিক সংস্কৃতির অন্যতম প্রবক্তা। সমাজ ও মানুষের জীবনের রঙকে শিল্পীরা তাদের তুলির রেখায় বাস্তবে রুপায়িত করে আরেক জীবনের সৃষ্টি করেন। ফলে শিল্পকর্ম হয়ে উঠছে সুন্দর পৃথিবীর আরেক সুন্দর জগত।
তিনি বলেন , কয়েক দশক আগে ভারতের শিল্পীরা যে সব শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন , সেগুলোর এক একটা ক্যানভাস এখন লাখ রুপী বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়ার দেশগুলোতে এখন শিল্পকর্মের মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। চিরায়ত শিল্পকর্মকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য মিউজিয়ামের বিকল্প নেই। অনেক দেশ এ ব্যপারে এগিয়ে গেছে। ভারতেও আর্ট মিউজিয়াম হচ্ছে। বাংলাদেশের শিল্পকের্ম আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। গ্যালারীও রয়েছে এ দেশে। কিন্তু মিউজিয়াম হলে শিল্পের বাজারও সৃষ্টি হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে মডরেটর ছিলেন শিল্প সমালোচক ও লেখক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্ট ফ্যাকাল্টি রয়েছে, এগুলোর পাঠ্যসূচি পুরনো। পাঠ্যসূচি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। তবে, বাংলাদেশ গত তিন দশকে শিল্পকর্মে অনেক দূর এগিয়েছে। যার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে চলতি প্রদশর্নীতেই।
তিনি বলেন, আমাদের জেলাভিক্তিক গ্যালারী প্রয়োজন। এতে শিল্পকর্মের বাজার সৃষ্টি হবে। ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে একটি গ্যালারী গড়ে উঠেছে। এভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে আমরা গ্যালারীর স্থাপিত হবে এই আশা করছি।
বৈঠকে আরও আলোচনায় অংশ নেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিল্পী রশিদ আমিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিল্পী শায়লা শারমিন, অস্ট্রেলিয়ার শিল্পী পিটারিস সাইমিটিস, জাপানের শিল্পী ড. কোটা নাকামুরা, ফিলিপাইনের শিল্পী ট্র্যাস রোমান, সিংগাপুরের শিল্পী জন ক্যারি প্রমুখ। বৈঠকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শতাধিক শিল্পী উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পী পিটারিস সাইমিটিস বলেন, শিল্পী ও শিল্পকর্মের কোন সীমান্ত নেই। এই সত্যকে বাস্তবায়ন করছে ঢাকার এই প্রদর্শনী। প্রদশর্নীতে ৬৮ দেশের শিল্পীদের সাড়ে চার শত শিল্পকর্ম অংশ নিচ্ছে। এ শিল্পের বাজার নিয়ে আজ বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা কথা বললেন। শিল্পকর্মের গুণাগুণের কারণেই বাজার প্রসারিত হচ্ছে।
অধ্যাপক শায়লা শারমিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট ফ্যাকাল্টির পাঠ্যসূচি ও পাঠদানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ ও শ্রেণীকক্ষের শিক্ষার মানের ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বেড়েছে। পাঠ্যসূচি আধুনিকায়ন করা হলে শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগতি আসবে।
ড. কোটা নাকামুরা বলেন, জাপানে গত তিন দশকে চারু ও কারুশিল্পের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। দেশটির জনগণের মধ্যেও শিল্পকর্ম কেনার উৎসাহ রয়েছে। সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পাঠ্যসূচি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ক্রেতার চাহিদার কথা বিবেচনায় এনে শিল্পীরা চিত্রকর্ম নির্মাণ করেন। তা গ্যালারীতে প্রদর্শন করা হয়। ক্রেতারা গ্যালারী পদির্শন করে শিল্পকর্ম ক্রয় করেন। বিভিন্ন দেশে জাপানের চিত্রকর্ম রফতানিও হচ্ছে আজকাল।