জয়পুরহাটে পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে ৬৭ আলোক ফাঁদ বাস্তবায়ন

155
image_printPrint

জয়পুরহাট, ৩ সেপ্টম্বর, ২০১৮ (বাসস) : জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ে রোববার রাতে সদর উপজেলার ২৮টি ব্লকে ২৮টিসহ জেলায় ৬৭টি আলোক ফাঁদ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানিয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র বাসস’কে জানায়, রোপা আমন ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ক্ষতিকর পোকা মাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাতে আমন ধানের জমির পাশে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়ে থাকে। ৩টি বাঁশ দিয়ে ট্রাই পট তৈরি করে নিচে গামলায় সাবান পানি রাখা হয়। উপরে হ্যাজাক, হারিকেন, চার্জার লাইট বা ইলেক্ট্রিক বাতি ব্যবহার করা হয়। জমিতে থাকা পোকামাকড় আলোতে আকৃষ্ট হয়ে এসে গামলার পানিতে পড়ে।
পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যায়, ধানে ক্ষতিকর না বন্ধু পোকামাকড় বেশি রয়েছে। আলোক ফাঁদের মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিকর ও বন্ধু পোকামাকড় চেনার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে কৃষি বিভাগ। বন্ধু পোকামাকড় বেশি থাকলে ধানের জন্য কোন বালাইনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। পর্যবেক্ষণে ক্ষতিকর পোকা মাকড় বেশি হলে তবেই কীটনাশক ব্যবহার প্রয়োজন হয়। আলোক ফাঁদে শুধুমাত্র ক্ষতিকর পোকামাকড় হিসেবে সবুজ পাতা ফড়িং পাওয়া গেছে এবার। কিন্তু বন্ধু পোকামাকড় হিসেবে পাওয়া গেছে মাকড়সা, ড্রাগন ফ্লাই, ড্যামসেল ফ্লাই। এগুলো ক্ষতিকর পোকামাকড় শিকার করে থাকে। ফলে এই মুহূর্তে কৃষকদের রোপা আমন ধানের জমিতে কোন প্রকার বালাইনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে জানান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেরাজুল ইসলাম।
নিরাপদ ফসল উৎপাদনে কৃষকদের জন্য আইপএম পদ্ধতি হিসেবে আলোক ফাঁদ হচ্ছে অন্যতম ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর ও উপকারি পোকা চেনা সম্ভব হয় এবং সেই মোতাবেক কৃষকরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
আলোক ফাঁদ বাস্তবায়ন দেখার জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায়, অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মহব্বত হোসেন বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শন করেন। জেলায় রোববার রাতে ৬৭টি আলোক ফাঁদ বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায়।