ক্রীড়াঙ্গণে নারীর সাফল্য

588

॥ মাহবুব আলম ॥
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : মাঠপর্যায় থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী। বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে নারীর অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। দেশের গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে আনছে বাংলাদেশের নারীরা। সম্প্রতি মহিলা এশিয়া কাপ টি-২০ ক্রিকেটের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব ক্ষেত্রেই বর্তমানে নারীর ক্ষমতায়ন ও সাফল্য বেড়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও এ সাফল্য কম নয়। ক্রিকেট-ফুটবলেও দেশে বিদেশে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সালমা-রুমানা কিংবা কলসিন্দুরের কিশোরীরা। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাংলার বাঘিনীদের কেউ আটকিয়ে রাখতে পারবে না।
বাংলাদেশের ফুটবলে উজ্জ্বল কিশোরীরা। সাফল্য এনে দিয়ে গর্বিত করেছে বয়সভিত্তিক ফুটবল। বিশেষ করে কিশোরীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের কিশোরীরা চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়। রীতিমতো দেশকে উৎসবে রাঙিয়ে দেয় কলসিন্দুরের মেয়েরা।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে তহুরারা। এই সাফল্য আনন্দে উদ্বেলিত করে পুরো দেশের মানুষকে।
তহুরা-শামসুন নাহারদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ২০১৮ সালেও বজায় থাকে। হংকংয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের চার-জাতি জকি গার্লস ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ আমন্ত্রণমূলক ফুটবল কাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের কিশোরীরা।
সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। সিরিজের দুই ম্যাচে স্বাগতিকদের কোন প্রকার পাত্তাই দেননি সালমা-জানানারারা। জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ফুটবল বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় একটি খেলা। প্রথমে আমরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হলেও এখন তা অনেকটাই কমে গেছে। এখন অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও নারীরা আগের তুলনায় বেশি এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন প্রতিবছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এখন ৪৪-৪৫টি জেলা দল অংশগ্রহণ করে।
দেশের হয়ে ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশীয় গেমসে ৬৩ কেজি শ্রেণিতে (মহিলা) স্বর্ণপদক জিতেছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মাদারীপুর জেলায় জন্ম নেয়া তরুণী ‘তরুণ বিভাগে’ একটি স্বর্ণ এবং দুইটি রূপা জয় করেন।
মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, রাজনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে৷ কিছু উঁচু পদেও তাদের অবস্থান আছে। সার্বিক চিত্র কিছুটা ভিন্ন হলেও দেশে নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য প্রধানত দরকার অর্থনৈতিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা। এ ক্ষেত্রে বেশ এগোচ্ছে বাংলাদেশের নারীরা। ক্রীড়াঙ্গণও তেমনই একটি।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শারলোটা স্লাইটারও।
সম্প্রতি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দল খুব ভালো করছে। উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে তারা আরো ভালো করবে । পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নও হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী আয়েশা খানম বলেন, এট সত্য যে বাংলাদেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারক নারী৷ গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও নারী৷ নারীরা এখন শান্তি মিশনে আছেন, তারা পাহাড়ে চড়েন, বিমান চালান, ক্রিকেট খেলেন৷ কিন্তু এটাই সত্যের পুরোটা নয়৷ তবে নারীর প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশে তাদের সব অর্জনকে ম্লান করে দেয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, কর্ম ক্ষেত্রে নারী নিরাপদ নয়, পরিবেশ নারী বান্ধব নয়৷ তাই সত্যিকার অর্থে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য আরো অনেক দূর যেতে হবে৷
এ বিষয়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বর্তমান সরকার কন্যা শিশুদের উন্নয়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার যে কার্যক্রমগুলা গ্রহণ করেছে তা বেশ ফলপ্রসূ। কৃষি থেকে শুরু করে চাকরি ক্ষেত্রে যেভাবে নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে ক্রীড়া ক্ষেত্রেও কোনো অংশে কম নয়। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে।

image_printPrint