মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী আইন প্রণয়ন করেন

673

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী আইন ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও)’ প্রণয়ন করেছিলেন।
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বাসসকে বলেন, ‘এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী আইন ‘আরপিও’ প্রণয়ন করেন। আর এই আরপিও হচ্ছে সকল নির্বাচনী আইনের খুঁটি, এটাই আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে তরান্বিত করেছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন। তিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য এবং বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনে অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশের সরকার পরিচালনায় ছিলেন, তখন শুধু আরপিও-ই নয়, তিনি এদেশের মানুষকে সংবিধান দিয়েছেন, সংবিধানে গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, নির্বাচনের কথা বলেছেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কথা বলেছেন। কারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে তিনি বিশ্বাস করতেন।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১০টি জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব কটি নির্বাচনই হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ওই আদেশ জারি করেছিলেন। এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়। ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের আমলে ২০০৮ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিও ১৯৭২-এর সংশোধন করা হয়।
আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনায় ওই সময় আরপিও প্রণীত হয়েছিল। নির্বাচনী আইন নির্বাচন সংক্রান্ত আইনবিধান। সুষ্ঠভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা, প্রার্থী এবং প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের আচরণ ব্যাখ্যা এবং এ সম্পর্কিত বিধিবিধান লঙ্ঘন করলে লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির বিধান নিশ্চিত করাই নির্বাচনী আইনের লক্ষ্য।
বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে প্রণীত সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন। নির্বাচন কমিশন সংবিধান ও আইনের আওতায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন। সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও তত্ত্বাবধান, নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পদ্ধতি নির্ধারণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে গণপ্রতিনিধিত্ব্ আদেশ ১৯৭২, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ১৯৭২ এবং আচরণ বিধিমালা ১৯৯৬ প্রণীত হয়। এসব আদেশ ও বিধিমালার সমন্বয়েই নির্বাচনী আইনবিধান গঠিত।

image_printPrint