জলবিদ্যুৎ খাতে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক শিগগিরই একটি চুক্তিতে পরিণত হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

68
image_printPrint

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের সহযোগিতায় নেপাল ও ভূটানের সাথে বিদ্যুৎ খাতে সম্পর্ক গড়তে যাচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ, ভারত ও ভূটানের মধ্যে জলবিদ্যুৎ খাতে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক শিগগিরই একটি চুক্তিতে পরিণত হবে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল সোমবার ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বৈঠককালে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শেরাটন হ্যানয় হোটেলের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী দু’দিনব্যাপী ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশ গ্রহণের জন্য ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অবস্থান করছেন। সোমবার (২৭ আগষ্ট) থেকে এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম দিনেই তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে মিলিত হন। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে এ কথা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের (২৫-২৬ মে, ২০১৮) কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের সাথে বহুবিধ সম্পর্ক গড়ে তুলতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন,বাংলাদেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের অকৃত্রিম বন্ধুসুলভ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের গভীরতম সময়কে স্মরণ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী জ্বালানি খাতে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন, ভারত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। নতুন বিদুৎ উৎপাদন প্রকল্পগুলোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় অংশ থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে চলমান আলোচনার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। মুস্তফা কামার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি ট্যারিফ নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার যে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করছে সে বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
তিনি দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরো বেশি ফলপ্রসূ করার জন্য সকল প্রকার বাধামুক্ত করতে সুষমা স্বরাজকে অনুরোধ জানান। অসম বাণিজ্য ঘাটতি ও শুল্ক বাধা দূর করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ একটি সুষম পদ্ধতিতে বৃদ্ধির জন্য ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেন, যাতে দু’দেশই লাভবান হতে পারে।
পরিকল্পনামন্ত্রী ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যাটিও স্থান পায়।
আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা প্রকাশ করেন, এই দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ভারত বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে এবং এই সমস্যা সমাধান করতে মিয়ানমারের প্রতি কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে দ্রুত শর্তহীন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে নিরাপদ, টেকসই ও মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।