পিরোজপুরের আমন চাষিরা চারা রোপণে ব্যস্ত

215
image_printPrint

পিরোজপুর, ২৭ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : চলতি আগস্টে প্রায় পুরো মাস জুড়ে অতি বর্ষণের ফলে জেলার আমন চাষিরা বিপাকে পড়ে আমন চারা রোপণ এখনও শেষ করতে পারেনি।
জেলার কোন কোন এলাকায় আমনের চাষাবাদ শেষ করতে আগামী মাসের মাঝামাঝি সময় পার হয়ে যাবে। আমন চাষিরা এখন ব্যস্ত সময় অতিক্রম করছে। জেলার কোন কোন স্থানে অতি বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণে চাষাবাদের কাজ বিঘিœত হয়েছে।
গত ৪/৫ দিনে বৃষ্টি কিছুটা কম হওয়ায় এবং মাঠের পানি সরে যাওয়ায় চাষিরা ট্রাক্টর ও গরু দিয়ে জমি চাষ করে চারা রোপণের উপযোগী করে তুলছে। এদিকে একটানা বর্ষণে কিছু কিছু স্থানের আমন বীজতলা বিনষ্ট হলেও আমন চারার কোন সংকট হবে না বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়।
চলতি মৌসুমে পিরোজপুরে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৯ মেঃ টন আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পিরোজপুর জেলার ৭ উপজেলার ৫২ টি ইউনিয়ন ও ৩ টি পৌর এলাকায় এবার ৬১ হাজার ৬৬৯ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৪ হাজার ৯৩৯ মেঃ টন আমন চাষের এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। উপজেলা গুলোতে চাষের এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা উফশী এবং স্থানীয় জাত মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে পিরোজপুর সদরে ১০ হাজার ৭০ হেক্টরে ১৫ হাজার ৯৮৯ মেঃ টন, ইন্দুরকানীতে ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টরে ৮ হাজার ৭৬০ মেঃ টন, কাউখালীতে ৪ হাজার ৫ শ’ হেক্টরে ৭ হাজার ৪৮ মেঃ টন, নেছারাবাদে ৬ হাজার ৬ শ’ হেক্টরে ১০ হাজার ১০৫ মেঃ টন, নাজিরপুরে ৬ হাজার ৭৭৯ হেক্টরে ১৩ হাজার ১৬৭ মেঃটন, ভান্ডারিয়ায় ৮ হাজার ৮০ হেক্টরে ১২ হাজার ৩৩৮ মেঃ টন এবং মঠবাড়িয়ায় ২০ হাজার ১৯০ হেক্টরে ৩৭ হাজার ৫ শত ৩২ মেঃ টন চাল। প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষক জমি চাষে ব্যবহার করছে ছোট ট্রাক্টর। গরু ও মহিষ দিয়ে চাষের কাজও চলছে কিছু কিছু মাঠে। সার সহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় আমন চাষে চাষিরা আকৃষ্ট হচ্ছে। পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সংযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় বাসসকে জানান কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে মাঠে ঘুরে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন। বীজতলার চারা তলিয়ে গেলেও পানি নেমে যাবার পর রৌদ্রের তাপ পেয়ে খুব একটা ক্ষতি হবেনা বলে আশা করছে চাষিরা। পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো: জাফর জানান, উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ১শত ৮০টি এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য সহায়ক প্রকল্প এর আওতায় ৩২টি প্রদশর্নী প্লট তৈরি করা হবে। এসব প্লটের মধ্যে ১ একরের ১৮০টি এবং ৫০ শতাংশের ৩২টি প্লট থাকবে। সরকার এসব প্রদশর্নী প্লটের জন্য বীজ, সার, ওষুধ বিনামূল্যে চাষিদের সহায়তা করবে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৭টি কৃষক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আমনের বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান মাড়াই পর্যন্ত এসব স্কুলের প্রত্যেকটিতে ৫০জন কৃষাণ কৃষাণী হাতে কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাষ্টার ট্রেনি এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কৃষাণ কৃষানীদের সুবিধামত সময় এসমস্ত প্রশিক্ষণ ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে এবং এদের প্রতিদিন ৭০ টাকা প্রশিক্ষণ গ্রহণ ভাতা দেওয়া হবে। কৃষি সম্প্রসারণের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান এ জেলায় ইতিমধ্যেই চাষে ৯০ ভাগ এবং ধান মাড়াইতে ৯৫ভাগ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। খুব দ্রুতই শতভাগ কৃষক এসব পদ্ধতি ব্যবহার করবে। জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আমন চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার বীজ সহজলভ্য হওয়ায় এবং এ পর্যন্ত আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় চাষাবাদের এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।