গ্রেনেড হামলার ১৪তম বার্ষিকী পালিত

191
image_printPrint

ঢাকা, ২১ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গ্রেনেড হামলার ১৪তম বার্ষিকী আজ মঙ্গলবার নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে।
২০০৪ সালের এইদিনে (২১আগস্ট) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশে ওই সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। এছাড়াও আহত হন আরো ৫শ’ জন দলীয় নেতা-কর্মী। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন, ১৪ দলভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবস পালিত হয়।
২০০৪ সালের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত জনগণ প্রতিবছর ২১ আগস্টকে গ্রেনেড হামলা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
সোমবার দিবাগত মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মোমবাতি প্রজ্জলন করে গ্রেনেড হামলা দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গ্রেনেড হামলায় নিহত ২৪ জনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সেদিনের ঘটনাস্থলে শহীদদের স্মরণে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক আ ফ ম বাহা উদ্দিন নাছিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করার পর ১৪-দলীয় জোট, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতীলীগ, ২১ আগস্টে নিহতদের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনরা শহীদদের স্মরণে বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।