বঙ্গবন্ধু’র খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে : আইনমন্ত্রী

240

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০১৮ (বাসস) : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, বিদেশে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধু’র খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৫/৬ জন আসামী বিদেশে অবস্থান করছে। তাদের ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর করার জোর প্রচেষ্টা চলছে।’
আইনমন্ত্রী আজ দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ সরকারি শিশু পরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে নগদ টাকা, বিছানাপত্র ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু’ উল্লেখ করে আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর শৈশব থেকেই জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন। এজন্য তাঁকে বৃটিশ ও পাকিস্তান সরকারের শত্রু হতে হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর কারা ভোগের পাশাপাশি তিনি সহ্য করেছেন অমানুষিক নির্যাতন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যে নেতা তাঁর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ এনে দিলো, সেই বঙ্গবন্ধুকে কিছু কুচক্রী মহল ও মীরজাফর নির্মমভাবে হত্যা করলো। এমনকি তাঁর দশ বছরের শিশুপুত্র রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করা হলো। এটি ভাবতেই অবাক লাগে।’
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন,‘শিশু রাসেল বলেছিল, ‘আমি মার কাছে যাবো, কিন্তু তাকে মার কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গুলি করে হত্যা করা হয়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ভাগ্য ভালো, কারণ বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা সেদিন বিদেশে ছিল।
আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর খোন্দকার মোশতাক ও জিয়া ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারও এই নির্মম হত্যাকা-ের বিচার করেনি বরং খুনিদের চাকরি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিল।
আইনমন্ত্রী বলেন,‘ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা এখন উন্নত দেশ পেয়েছি। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে বাংলাদেশ ছিলো তলাবিহীন ঝুড়ি। এখন বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। গ্রাম-গঞ্জে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসনে পৌঁছে গেছে।’
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ্ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

image_printPrint