বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি) : বাংলাদেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব আসবে না : প্রধানমন্ত্রী

বাসস প্রধানমন্ত্রী-৩ (তৃতীয় ও শেষ কিস্তি)
শেখ হাসিনা-স্মরণ সভা-ভাষণ
বাংলাদেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব আসবে না : প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতার হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্তদের অধিকাংশ তাঁর আশপাশের মানুষ-মেজর নূর শেখ কামালের সঙ্গে আতাউল গণি ওসমানির এডিসি, মেজর ডালিম, জিয়াউর রহমান এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সর্বক্ষণই ধানমন্ডি ৩২ এর বাড়িতে যাতায়াত ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেইমানী-মুনাফেকীর জন্য কার কথা বলবো, কাকে দোষ দেব, আমার বাবার সঙ্গে যারা ছিলেন দীর্ঘদিনের সাথী, ক্ষমতার লোভে পড়ে, পাকিস্তানীদের দোসর হিসেবে তারা বেইমানী-মুনাফেকী করেছে।
তিনি বলেন, খুনী মোস্তাক রাষ্ট্রপতি হলো, সেই হত্যাকান্ডের ঘোষণা দিলো মেজর ডালিম। যে স্ত্রী-শ্বাশুড়িসহ ২৪ ঘন্টা আমাদের বাসায় পড়ে থাকতো। জিয়াকে একজন মেজর থেকে প্রমোশন দিয়ে জাতির পিতাই তাকে মেজর জেনারেল করেছিলেন এবং জিয়া এবং তার স্ত্রী প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতেন।
তাঁদের বাসায় এসব ষড়যন্ত্রকারীদের ঘন ঘন আসার নেপথ্যেই তাদের ষড়যন্ত্র চরিতার্থ করার উদ্দেশ্য লুক্কায়িত ছিল কিনা প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই যদি আমি একটার পর একট ঘটনা বিশ্বেষণ করতে যাই তাহলে অনেক কিছুই আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ভাগ হয়ে গেল। ছাত্রলীগকে ভাগ করে জাসদ করলো। স্বাধীনতার সময় আমাদের সঙ্গে থাকা এসব শক্তিই সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠলো-কোন কিছুই যেন তাদের ভালো লাগে না। কথায় কথায় জাতির পিতাকে গালি দেওয়া এবং তাঁর বিরোধিতা করাই যেন তাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, কিন্তুু তারা কি তখন একটু উপলদ্ধি করেছিলেন-যে এই বিরোধিতা করার ফলে এদেশে কি অঘটন ঘটতে পারে। তারা কি একবারো ভেবেছিলেন তাদের এই বিরোধিতার সূত্রধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কত বড় সর্বনাশ হতে পারে। মনে হয় সে উপলদ্ধিটা তাদের ছিল না। থাকলে জাতির পিতাকে অন্তত কিছুদিন সময় দিতেন, দেশটাকে গড়ে তোালার এবং স্বাধীনতার ভিত্তিটাকে মজবুত করার, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার।
জাতির পিতাকে হত্যার পরই বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে গণপ্রজাতন্ত্রীর বদলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র করে পাকিস্তানের আদলে প্রথমে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলেন, প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার পর থেকেই দেশে অপ্রচার শুরু হয়েছিল এবং সেই অপপ্রচার করে করেই জনগণের মাঝে একটি দ্বিধাদ্বন্দ সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল।
তবে, ফারুক-রশিদ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত এই দুই খুনী বিখ্যাত সাংবাদিক এন্থনী মাসকারহেন্সের সঙ্গে সাক্ষাতকারে বলেছিল বঙ্গবন্ধু এতই জনপ্রিয় ছিল যে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা কম করতে সমর্থ না হওয়ায় তাদের তাঁকে হত্যা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতা এদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন এবং আমরা তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরে এদিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ, আমরা মহাকাশ জয় করেছি, আজকে দেশের মানুষের পেটে ভাত আছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত করেছি, ইনশাল্লাহ আমরা দারিদ্র মুক্ত করেই একে গড়ে তুলবো।
জাতির পিতার আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না। জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবো এটাই আজকের দিনে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
বাসস/এএসজি-এফএন/২১৫০/আরজি